আমেরিকার হিউস্টন স্টেডিয়ামে সোমবার চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বের ম্যাচে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর দুর্দান্ত গোলে জাপানের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, যা বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। খেলার প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দ ফিরে পায় লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি। এই অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ নকআউট ম্যাচের বিজয়ী দল পরবর্তী ষোলোর রাউন্ডে ইউরোপের নরওয়ে অথবা আফ্রিকার পরাশক্তি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে। হিউস্টন স্টেডিয়ামের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারিতে দুই দলের হাজার হাজার সমর্থক প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত উত্তেজনার সাথে উপভোগ করছেন এবং মাঠের আবহাওয়াকে করে তুলেছেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত।
এর আগে খেলার ২৯তম মিনিটে জাপানের তারকা ফুটবলার কাওরু সানু মাঝমাঠে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় সামনের দিকে এগিয়ে যান। তিনি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে বিশ্বখ্যাত গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে জাপানের পক্ষে প্রথম গোলটি করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলা শুরু করে জাপানি রক্ষণভাগের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের বাম প্রান্ত থেকে বাড়ানো একটি নিখুঁত ক্রস থেকে দূরবর্তী পোস্টে উড়ে এসে দুর্দান্ত হেডের সাহায্যে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান ক্যাসেমিরো।
সাবেক ইংরেজ ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন হিউস্টন স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে মন্তব্য করেছেন যে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ব্রাজিল অত্যন্ত সাহসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। তিনি ক্যাসেমিরোর এই গোলটিকে একটি পাঠ্যপুস্তকীয় নিখুঁত হেডের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন যা জাপানি গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেয়নি। এই গোলের পর হিউস্টন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার ব্রাজিলীয় সমর্থক উল্লাসে মেতে ওঠেন এবং পুরো স্টেডিয়ামে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রথমার্ধের ধীরগতির ফুটবল কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের এই আক্রমণাত্মক রূপ ম্যাচটিকে আরও অনেক বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।
তবে এই ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল করা জাপানি তারকা কাওরু সানুর একটি কঠোর ফাউল নিয়ে মাঠের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ম্যাচের শুরুর দিকেই একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে আরেকটি বিপজ্জনক ফাউল করায় অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া উচিত ছিল। রেফারি তাকে মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্রাজিলের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়ে কোনো দল নতুন করে গোল করে সরাসরি জয় ছিনিয়ে নিতে পারবে কি না, নাকি এই ঐতিহাসিক লড়াইটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। গত অক্টোবর মাসে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জাপান দল ব্রাজিলকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছিল, যার ফলে দুই দলের এই ফিরতি লড়াইটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।
