রেল অবকাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ ড্রোনগুলো নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে পোল্যান্ডের রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী। গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি সরকারি খসড়া প্রস্তাবে এই পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
রেল পরিবহন আইনের এই সংশোধনী খসড়াটি তৈরি করেছে দেশটির অবকাঠামো মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এর পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এসওকে নামে পরিচিত রেলওয়ে সিকিউরিটি গার্ডের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রক্ষীরা এমন সব সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি পাবেন যা মানববিহীন উড়োজাহাজ ধ্বংস বা অকার্যকর করতে সক্ষম।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর ফলে মানববিহীন উড়োজাহাজ মোকাবিলায় বিশেষ সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সমকক্ষ ক্ষমতা পাবে রেল রক্ষীরা।
এছাড়াও আরও বিস্তৃত পরিস্থিতিতে অগ্নিাস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাবেন রক্ষীরা। এর মধ্যে বিমান চলাচল আইনের আওতাধীন ঘটনাগুলোতে ড্রোন অকার্যকর করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যান্য বিধানের মধ্যে রয়েছে অভিযান বা হস্তক্ষেপে ভিডিও ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের পেছনে ধাওয়া করে প্রয়োজনে বেসরকারি ভূমিতে প্রবেশের অধিকার।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমান সময়ের বিভিন্ন হুমকির সঙ্গে এসওকে বাহিনীর ক্ষমতা খাপ খাইয়ে নিতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অংশ এই রেলপথের সুরক্ষা জোরদার করতে চান কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার কথিত হাইব্রিড কার্যক্রম নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সাবোটাজ বা অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনার পর নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন নেটওয়ার্ক আরও সুরক্ষিত করেছে ওয়ারশ।
গত বছরের নভেম্বর মাসে ওয়ারশ থেকে লুবলিন রুটে মিকার কাছে রেললাইনের একটি অংশ বিস্ফোরকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
পুলভির কাছে আরেকটি ঘটনায় ওভারহেড অবকাঠামোর ক্ষতি করা হয়। সেখানে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত করার উদ্দেশ্যে রেললাইনের ওপর ধাতব ক্ল্যাম্প বসানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, রাশিয়ার গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা ইউক্রেনের দুই নাগরিক ওই হামলাগুলোর পরিকল্পনা করেছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পোল্যান্ডে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে গুরুতর নাশকতামূলক ঘটনাগুলোর মধ্যে এগুলোকে গণ্য করেছেন তিনি।
সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর আশেপাশে ড্রোন চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত জুলাই মাসে একটি সংসদীয় তদন্তে রেলওয়ের বিভিন্ন অবস্থানের কাছে ড্রোন ওড়ার বেশ কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
রাশিয়ার নাশকতা, সাইবার হামলা এবং হাইব্রিড কার্যক্রম পোল্যান্ড ও অন্যান্য ন্যাটো সদস্য দেশের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে বলে ওয়ারশর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা উচ্চারিত হচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতিতেই নতুন এই আইনগত খসড়া সামনে এলো।
