কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি মঙ্গলবার আলবার্টার এডমন্টনে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন এবং আসন্ন একটি প্রাদেশিক ভোট নিয়ে জোরালো সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ওই গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হবে প্রদেশটি কানাডার সঙ্গেই থাকবে নাকি স্বাধীনতার পক্ষে দ্বিতীয় ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আরেকটি ভোট আয়োজন করবে।
সমর্থকদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, সবচেয়ে খারাপ সময়ে এই গণভোট এসে উপস্থিত হয়েছে এবং বর্তমান বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
দেশের সামনে উপস্থিত বাহ্যিক হুমকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চোখ খুলুন, দেশের সীমানার বাইরে এমন কিছু শক্তি রয়েছে যারা আমাদের ভাঙতে কাজ করছে যাতে তারা আমাদের কবজা করতে পারে, এটা কখনোই হতে দেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও অসন্তোষের বিষয়টিরও স্বীকৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি স্বীকার করেন যে দেশের ইতিহাসজুড়ে বিভিন্ন জাতির মধ্যে করা প্রতিশ্রুতিগুলো অতীতে ভাঙা হয়েছে।
কোনো কিছু যখন ঠিক থাকে না বা ন্যায্য হয় না, তখন আলবার্টার মানুষ ও কানাডার নাগরিক হিসেবে আমরা তা থেকে পালিয়ে যাই না বা লুকিয়ে থাকি না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সবাই মিলে সেই সমস্যার সমাধান করা হয় এবং এর মাধ্যমেই দেশ আরও শক্তিশালী হয়, কারণ এটিই আলবার্টা ও এটিই কানাডা, যোগ করেন তিনি।
সরকারের জ্বালানি এজেন্ডার দিকে মনোযোগ সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রদেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে কানাডা আবারও বড় পরিসরে কিছু নির্মাণ করছে এবং আলবার্টা তার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নের পদক্ষেপ হিসেবে প্যাসিফিক লিংক পাইপলাইন প্রকল্পের পক্ষে সাফাই গান কার্নি।
প্যাসিফিক লিংক পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে দেশের পূর্ণ জ্বালানি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিচ্ছিন্নতার পথ এড়িয়ে জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অনুরোধ করেন যে এখন ভেঙে ফেলার নয়, বরং গড়ে তোলার সময় এবং কানাডার পক্ষে দাঁড়ানোর দায়িত্ব এখন আমাদেরই।
ভোটারদের উচ্চ উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে কার্নি বলেন, ভোটকেন্দ্রের জরিপ ভোট দেয় না, কেবল মানুষই ভোট দেয়, তাই এই গণভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে জনগণের উপস্থিতি।
