যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গত মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে চাকুরির সংখ্যা কমেছে এবং গ্রীষ্মকালীন কর্মসংস্থানের ধীর গতি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে শ্রম বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে যে গত মাসে দেশটিতে সামগ্রিকভাবে তেইশ হাজার চাকরি হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। খুচরা ব্যবসা এবং স্থানীয় সরকারের শিক্ষা খাতে ছাঁটাইয়ের কারণে এই পতন ত্বরান্বিত হয়েছে বলে বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্স জানিয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই আর্থিক খাতের ওপর এর তাত্ক্ষণিক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন যে গত মাসে অর্থনীতিতে নতুন করে অন্তত আশি হাজার চাকরি যোগ হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাওয়ায় আর্থিক বাজারগুলো নতুন করে হিসাব নিকাশ শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, মে ও জুন মাসের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সংশোধন করা হয়েছে। এই দুই মাসে নতুন চাকরি যুক্ত হওয়ার সংখ্যা লক্ষাধিক কমিয়ে দেখানো হয়েছে, যা গ্রীষ্মজুড়ে শ্রমবাজারের ভঙ্গুর অবস্থাকেই ফুটিয়ে তোলে। মার্কিন বাজারে কেনাকাটা ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রেও ছাঁটাইয়ের বড় ধাক্কা লেগেছে।
চাকরির বাজার দুর্বল হলেও বেকারত্বের হার সামান্য কমে চার দশমিক এক শতাংশে নেমে এসেছে বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ কাজ খোঁজা থেকে বিরত থাকায় মূলত এই হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ ন্যান্সি ভ্যানডেন হাউটেন উল্লেখ করেছেন যে সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতির উর্ধ্বগতির মধ্যেও এই পরিসংখ্যান বাজার বিশ্লেষকদের অবাক করেছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও দুর্বল শ্রমবাজারের এই চিত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারকদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রিমিয়ার মাইটনের বিনিয়োগ প্রধান নিল বিরেল জানিয়েছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে চাকরি সৃষ্টির হার কোভিড মহামারীর পরবর্তী সময়ের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। তবে এই মন্থর গতি অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধির ওপর কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরবর্তী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই শ্লথ গতি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন কর্পোরেট খাতের বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং গ্যাস স্টেশন বা সাধারণ পণ্যের দোকানে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণে এই শ্রম বাজারের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, মার্কিন শ্রমবাজারের এই অপ্রত্যাশিত সংকোচন বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পণ্য ও সেবামূলক খাতের বাইরে অন্যান্য ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হচ্ছে। আগামী মাসগুলোতে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটির ওপর নির্ভর করবে মার্কিন মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
