শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধারকৃত প্যাঙ্গোলিন এখন বন্য পরিবেশে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধারকৃত প্যাঙ্গোলিন এখন বন্য পরিবেশে

ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের শিকার একটি প্যাঙ্গোলিন শাবককে দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় পরিচর্যা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলে পুনরায় বন্য পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে। স্টিভি নামের এই প্যাঙ্গোলিনটিকে ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়। পাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করার সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে বিশেষায়িত পশুচিকিৎসক কেলসি স্কিনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

প্যাঙ্গোলিনকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ব্যাড বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই প্রাণীর চাহিদা কমছে না। স্টিভিকে উদ্ধার করার সময় তার মা নিখোঁজ ছিল। আফ্রিকান প্যাঙ্গোলিন ওয়ার্কিং গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক অ্যালেক্সিস ক্রিয়েল জানান, প্যাঙ্গোলিন শাবকদের ট্রাফিকিংয়ের শিকার হওয়া অত্যন্ত ভয়াবহ একটি বিষয়। স্টিভি নামটি রাখা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ সার্ভিসের কর্মকর্তা স্টিভেন কোয়েনের নামানুসারে, যিনি ওই পাচারকারীকে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

২০০০ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দশ লক্ষাধিক প্যাঙ্গোলিন অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আরও অন্তত পাঁচ লক্ষ প্যাঙ্গোলিন পাচারের শিকার হয়েছে। এশিয়ায় প্রথাগত ওষুধ তৈরির জন্য এর আঁশ এবং মাংসের উচ্চ চাহিদার কারণে এই অবৈধ বাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন শিল্পেও প্যাঙ্গোলিনের চামড়ার ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

প্যাঙ্গোলিন পুনর্বাসন অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। পাচারের শিকার প্রাণীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অনেককে ব্যাগের ভেতর গাদাগাদি করে রাখা হয়, ফলে তারা দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতা ও সংক্রমণের শিকার হয়। কেলসি স্কিনারের মতো বিশেষজ্ঞদের সেবায় স্টিভি ধীরে ধীরে সেরে ওঠে এবং বিড়াল শাবকের দুধের ফর্মুলা ও প্রাকৃতিক খাবারের সমন্বয়ে তার শারীরিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়। ২০২২ সালে তাকে পুনরায় বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে বর্তমানে বন বিভাগ ও বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থা পাচার রোধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে। যদিও উদ্ধার করা প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখার হার আশাব্যঞ্জক, তবুও বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের মূল হোতাদের ধরা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্যাঙ্গোলিনের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের বাঁচাতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অবৈধ চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। স্টিভির বেঁচে থাকা ও বন্য পরিবেশে ফিরে যাওয়া এই কঠিন লড়াইয়ে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

banner
Link copied!