রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপাল তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ছয়শ জনের বেশি নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

নেপাল তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ছয়শ জনের বেশি নিহত

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে গত বুধবার সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ছয়শ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিবিসি নিউজ ও আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। হিমালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে একটি বিশাল হিমবাহ ও পাথর ধসে পড়ার কারণে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয় যা সীমান্ত অঞ্চলের নদীগুলোকে উপচে ফেলে। আকস্মিক এই জলরাশি নিমেষেই বসতি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন যে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক স্থানে পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়শ ছাব্বিশ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় দুই হাজার চারশ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় নতুন করে হ্রদ উপচে পড়ার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিব্বত সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে চীনও হতাহত ও নিখোঁজের তথ্য প্রকাশ করেছে যেখানে বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকৃতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই আকস্মিক দুর্যোগকে কোনো সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোও এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কারণ পাহাড়ি নদীগুলোর পানি নেমে আসার ফলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রিয়জনদের খোঁজে বিভিন্ন ত্রাণশিবির ও উদ্ধারকেন্দ্রের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। কী কারণে এই বিশাল হিমবাহের পতন ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞরা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন। উদ্ধারকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অবিরাম বৃষ্টিপাত অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে নদী তীরবর্তী এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না মেলা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় দেশি নাগরিকের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটক ও শ্রমিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উদ্ধারকৃতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

banner
Link copied!