রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার

নেপালের হিমালয় সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতানব্বই বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে দীর্ঘ চার ঘণ্টার চেষ্টার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে শনিবার বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। গুণ মায়া বোহারা নামের ওই নারী একটি বৃদ্ধাশ্রমের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন এবং বর্তমানে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তিব্বত সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে গত বুধবার আঘাত হানা এই প্রলয়ঙ্করী বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। হিমালয়ের পাহাড়ি উপত্যকায় একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার ফলে এই আকস্মিক জলরাশি ও পাহাড়ের তীব্র স্রোত নিম্নাঞ্চলে নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

উদ্ধারকৃত ওই নারীর আত্মীয় দীপক বোহারা বিবিসি নেপালকে জানিয়েছেন যে উদ্ধারকর্মীরা যখন তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বাইরে নিয়ে আসেন, তখন তাকে দেখতে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিজয়ী হয়ে ফেরা কোনো যোদ্ধার মতো মনে হচ্ছিল। কাঠমান্ডু থেকে ছুটে এসে এই উদ্ধারকাজে নিজে অংশ নেন তার পরিবারের সদস্যরা। সীমান্ত অঞ্চলের এই বিপর্যয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় এবং পাহাড়ি রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর জন্য উদ্ধারকর্মীদের প্রবল স্রোত, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পুরু পলিমাটির স্তরের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা ছয়শ ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে। বহু বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং শ্রমিক এই সীমান্ত করিডোরে অবস্থান করছিলেন যখন আকস্মিক পাহাড়ি ঢল সবকিছু নিমেষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং নতুন করে হ্রদ সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় প্রশাসন সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল। তবে ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পাওয়ার পর সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকর্মীরা পুনরায় জোরেশোরে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে এই ধরনের মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিভিন্ন ত্রাণশিবিরের সামনে প্রিয়জনরা অধীর অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোও উদ্ধারকাজে সহায়তা এবং চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করার জন্য এগিয়ে এসেছে।

স্থানীয় পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কাজ সমন্বয় করছেন। চলমান উদ্ধার অভিযানের মধ্যে নতুন করে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান না মেলা পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

banner
Link copied!