রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়া থেকে শিশুদের রক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের ধোঁয়া থেকে শিশুদের রক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের পালাংকারায়া শহরে দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে শিশু ও নবজাতকদের সুরক্ষায় স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাগুলো দুটি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে বলে চ্যানেল নিউজ এশিয়ার প্রতিবেদনে শুক্রবার নিশ্চিত করা হয়েছে।

বোর্নিও এবং সুমাত্রা দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে দেশটির পাঁচ মিলিয়নের বেশি মানুষ সরাসরি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। দীর্ঘায়িত খরা এবং অনিয়ন্ত্রিত উপায়ে কৃষি ও ভূমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানোর ফলে সৃষ্ট এই দাবানল ইন্দোনেশিয়ার বিশাল অঞ্চল জুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

পালাংকারায়ার মধ্য কালিমন্তান অঞ্চলে স্থাপিত নতুন এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শিশুখাদ্য, অক্সিজেন সিলিন্ডার, জরুরি ওষুধ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ঘন ধোঁয়া ও দূষিত বাতাসের কারণে যেসব শিশু তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছে, তাদের সাময়িক ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এই ক্ষুদ্র পরিসরের কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন বিকালের দিকে বাতাসের মান এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে ঘর থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকরা এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর ভরসা করছেন, যা বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের তীব্রতা অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি ও পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ হেক্টর বনভূমি ও জঙ্গল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা রাজধানী জাকার্তার আয়তনের প্রায় তিন গুণের বেশি। তীব্র এল নিনো আবহাওয়া প্যাটার্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত রোগের লক্ষাধিক কেস রেকর্ড করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাতাসে ভাসমান বিষাক্ত কণার কারণে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটানো এবং মেঘে লবণ ছড়িয়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের মতো জরুরি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, প্রকৃতি ও বনাঞ্চল ধ্বংসের জন্য দায়ী যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং নজরদারি বাড়িয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার এই দাবানলের কারণে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিপূর্বে মালয়েশিয়ার কিছু অঞ্চলে এই ধোঁয়ার মারাত্মক প্রভাব দেখা দেওয়ায় শত শত বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সরকার দেশজুড়ে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি প্রতিরক্ষামূলক মাস্ক বিতরণ করেছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না আসার পরামর্শ দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দীর্ঘমেয়াদী ধোঁয়ার এক্সপোজার রোধ করা না গেলে তা ফুসফুস ও অন্যান্য vital অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এবং বায়ুর মান নিরাপদ স্তরে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য সংকট ও জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

banner
Link copied!