মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নাইজারের মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ জনের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ১০:০২ পিএম

নাইজারের মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় মৃত্যু ৪৯ জনের

ছবি : সংগৃহীত

নাইজারের উত্তরের সাহারা মরুভূমিতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৯ জন যাত্রী তৃষ্ণার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। মালির একটি ধর্মীয় উৎসব থেকে ফেরার পথে ট্রাক বিকল হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা মরুভূমির ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যাত্রীরা নাইজার-আলজেরিয়া সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ আসামাকা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে মরুভূমির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাকটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ সময় অচল হয়ে পড়ে থাকায় যাত্রীরা চরম পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হন।

ঘটনাটির ভয়াবহতা প্রকাশ করতে গিয়ে আগাদেজ অঞ্চলের গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে তীব্র তাপমাত্রা এবং পানির কোনো উৎস না থাকায় যাত্রীরা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাকটি মালির তালহানদেক শহর থেকে রওনা হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে চালক এবং যাত্রীরা যানবাহনটি মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকের নিচে এবং আশপাশে অনেকগুলো মরদেহ খুঁজে পায়। এই এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং মানসিকভাবে কষ্টসাধ্য।

ঘটনাটি জানাজানি হয় দুইজন জীবিত ব্যক্তির মাধ্যমে, যারা প্রায় ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পায়ে হেঁটে আসামাকায় পৌঁছে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল সেখানে পৌঁছায়। নিহতদের ওই এলাকাতেই গণকবরে দাফন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সময় সেনাসদস্যরা আরও একটি বিকল ট্রাকের সন্ধান পান, যেখানে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী তিন দিন ধরে আটকে ছিলেন। তবে সময়মতো তাদের পানি সরবরাহ এবং যানবাহন মেরামতে সহায়তা প্রদান করায় তারা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনা সাহারা মরুভূমির সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী অভিবাসী ও সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপমুখী যাত্রার ট্রানজিট রুট হিসেবে এই মরুভূমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বা ধর্মীয় উৎসবের প্রয়োজনে মানুষ প্রায়ই বিপজ্জনক এই পথ বেছে নেয়, যেখানে সামান্য যান্ত্রিক গোলযোগও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

গভর্নর তার বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অভিবাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত মানুষেরা প্রতিনিয়ত যে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়, এটি তারই একটি চরম বহিঃপ্রকাশ। সাহারা মরুভূমির মতো প্রতিকূল পরিবেশে নিয়মিত টহল এবং জরুরি সেবার অভাব থাকায় প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ দীর্ঘদিন ধরে এই বিপজ্জনক রুটগুলোতে নিরাপদ যাতায়াতের অভাব এবং মানুষের জীবন ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। আজকের এই শোকাবহ ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি মানবিক সতর্কবার্তা। যারা এই পথে যাত্রা করেন, তাদের নিরাপত্তায় স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে এ ধরনের ট্র্যাজেডি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

banner
Link copied!