মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা কেন্দ্র

ইউক্রেনের সহায়তা কেন্দ্রে রুশ বোমা হামলা: নিহত ২৬

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

ইউক্রেনের সহায়তা কেন্দ্রে রুশ বোমা হামলা: নিহত ২৬

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র এবং পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে রুশ বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং জরুরি পরিষেবা বিভাগ এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তাঁর নৈশকালীন ভিডিও বার্তায় জানান, রুশ বাহিনী প্রথমে একটি গ্রামীণ বিদ্যালয়ে বিমান থেকে বোমা হামলা চালায়। ভবনটি সাধারণ মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র এবং মানবিক সহায়তা বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

কমিশোভাখা গ্রামটি যুদ্ধক্ষেত্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে কোনো পঠদ্যাঠন চলছিল না। জাপোরিঝিয়া আঞ্চলিক কেন্দ্রের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এই জনপদটি অবস্থিত বলে জানান ইউক্রেনীয় এই নেতা।

জেলেনস্কি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন সেখানে পৌঁছাচ্ছিল, ঠিক তখনই রুশ বাহিনী প্রথম দফায় কয়েকটি বিমান বোমা নিক্ষেপ করে। এরপর তারা দ্বিতীয় দফায় আরও বেশ কিছু বোমা ফেলে, যার লক্ষ্য ছিল সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্র। এটি একটি ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা।

কমিশোভাখার ওপর রাত নেমে আসার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া কাঠামোর স্তূপের নিচে টর্চলাইট জ্বেলে তল্লাশি চালান। স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও চিত্রে এই ভয়াবহ দৃশ্য ফুটে ওঠে। জাপোরিঝিয়া শহর পরিষদের সচিব রেজিনা খারচেংকো জানান, এই বোমাবর্ষণের পর আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

জাপোরিঝিয়ার সামরিক কর্মকর্তা মাইখাইলো সেমিকিনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজে তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়। কারণ রুশ ড্রোনগুলো একই লক্ষ্যবস্তুতে বারবার হামলা চালাতে থাকে।

জেলেনস্কি দাবি করেন, কমিশোভাখার বাসিন্দারা যে প্রতি সপ্তাহে ওই স্থান থেকে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করতে জড়ো হন, তা রুশ বাহিনীর নিশ্চিতভাবেই জানা ছিল। তিনি আরও বলেন, এই হামলা প্রমাণ করে যে মস্কো সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে চায়।

ওলেশকি শহরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর এটি ঘটে। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে অবরুদ্ধ শহরটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে শত শত মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এ ধরনের আর কোনো মানবিক মিশন পরিচালনার পরিকল্পনা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ঘোষণা করেছেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় আলোচনা আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর আবুধাবিতে আবার শুরু হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানের জন্য সমঝোতার তাগিদ দিয়ে চলেছেন, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। এদিকে কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে ট্রাম্প ক্রেমলিনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছেন।

banner
Link copied!