হজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এই ঘরের হজ করা ফরজ। (সুরা আলে ইমরান, ৩:৯৭) হজ একটি ধারাবাহিক ইবাদত, যার প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ে ও স্থানে সম্পাদন করা আবশ্যক। নিচে তামাত্তু হজের আলোকে ধাপে ধাপে বিধান তুলে ধরা হলো।ইহরামের মাধ্যমেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু।
তামাত্তু হজকারীরা ৮ই জিলহজ হুদুদে হারামের যেকোনো স্থান থেকে হজের নিয়তে নতুন করে ইহরাম বাঁধেন। ইহরামের কাপড় পরে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইহরাম বেঁধে জোহরের আগেই মিনায় পৌঁছানো সুন্নত এবং ৯ই জিলহজ ফজর পর্যন্ত সেখানে রাত যাপন করা উত্তম।আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান ফরজ।
৯ই জিলহজ সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনা থেকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। এক মুহূর্তের জন্যও এই সময়ে অবস্থান না করলে হজ আদায় হয় না। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তালবিয়া ও দোয়ার মাধ্যমে সময় কাটাতে হয়।এরপর হাজিদের মুজদালিফায় অবস্থান করতে হয়।
সূর্যাস্তের পর মাগরিব না পড়েই মুজদালিফার দিকে যেতে হয় এবং সেখানে মাগরিব ও এশা একত্রে পড়া ওয়াজিব। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করা সুন্নত। ১০ই জিলহজ সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগে কিছু সময় এখানে অবস্থান করা ওয়াজিব। শয়তানকে মারার জন্য এখান থেকেই কঙ্কর সংগ্রহ করতে হয়।
১০ই জিলহজের চারটি কাজ নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় করতে হয়।
প্রথমত মিনায় পৌঁছে শুধু বড় শয়তানকে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। এরপর হজের কোরবানি আদায় করতে হয়। সবশেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করে ইহরামমুক্ত হওয়া যায়। এর পরের ধাপ হলো তাওয়াফে জিয়ারত, যা হজের অন্যতম ফরজ। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এর উত্তম সময় ১০ই জিলহজ।বিদায়ী তাওয়াফ হজের শেষ ওয়াজিব অংশ।
১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান ও তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। দূরদেশ থেকে আসা হাজিদের জন্য মক্কা ত্যাগের আগে সর্বশেষ তাওয়াফ বা বিদায়ী তাওয়াফ করা জরুরি। এই তাওয়াফের মাধ্যমেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। (সুরা বাকারা, ২:১৯৬) হজের দীর্ঘ এই সফরে প্রতিটি মাসয়ালা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে তবেই তা হজ্জে মাবরুর হিসেবে কবুল হবে।
