তুরস্কের কারাবন্দী কুর্দি বিদ্রোহী নেতাকে একটি দ্বীপ কারাগারের নবনির্মিত অংশে স্থানান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত সমাধানের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে শনিবার এক জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবদুল্লাহ ওজআলেন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে-এর নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৯ সালে আটকের পর থেকেই তিনি মারমারা সাগরের ইমরালী দ্বীপে সাজা ভোগ করছেন।
প্রো-কুর্দি ডেম পার্টির আইনপ্রণেতা মিদাত সানচার মেদ্যা খবর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্থানান্তরের কথা জানান। তবে তিনি স্থানান্তরের কোনো অপারেশনাল বা দাপ্তরিক বিবরণ দেননি।
নতুন এই কারাগারের সুযোগ-সুবিধা আগের চেয়ে ভালো কি না, তা সরাসরি নিশ্চিত না করলেও সানচারের বক্তব্যে উন্নত পরিবেশের ইঙ্গিত মিলেছে। আলোচনায় ওজআলেনের কারাবন্দী অবস্থার উন্নতির বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরেই কুর্দিদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল।
গত দুই মাস ধরে মীমাংসার কাঠামো থমকে আছে উল্লেখ করে সানচার শনিবার শান্তি উদ্যোগ দ্রুত ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
উন্নত এই সুবিধাসম্পন্ন নতুন অবকাঠামোয় স্থানান্তরের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান সানচার। নিয়মিত ওজআলেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ডেম পার্টির রাজনীতিকদের মধ্যে তিনিও একজন।
সত্তরের দশকে পিকেকে প্রতিষ্ঠা করেন ওজআলেন এবং কুর্দিদের কাছে তিনি একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক সমঝোতা এগিয়ে নিতে তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিকেকে বিলুপ্ত করা এবং অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান ওজআলেন। এর তিন মাস পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি অস্ত্র সংবরণ ও শত্রুতা সমাপ্তির ঘোষণা দেয়।
হাজার হাজার পিকেকে যোদ্ধাকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা ঘোষণা করে গত আগস্টে একটি আইন পাস করে তুর্কি সংসদ। এর পরপরই বিলে সই করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
১৯৮৪ সাল থেকে পিকেকে ও তুর্কি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সানচার বলেন, ভবিষ্যতের শান্তি আলোচনা সমন্বয় করার দায়িত্ব ওজআলেনকেই পালন করতে হবে। একতরফা প্রত্যাশা ও দাবির ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় এবং তুর্কি সরকারেরও তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
