সোমালি জলদস্যুরা ২৩ জন আরোহীসহ একটি ইরানি মাছ ধরার নৌকা হাইজ্যাক করেছে। এই নৌকাটি পরবর্তীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজিনি নামের মাছ ধরার নৌকাটি গত বৃহস্পতিবার সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর উপকূল বন্দরা বায়লা ও হাফুনের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রোববার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, ১২ জন জলদস্যু এই হাইজ্যাকের ঘটনাটি ঘটিয়েছে। নৌকার ক্রুদের মধ্যে ২১ জন ইরানি নাগরিক এবং দুজন সোমালি নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছেন। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান।
ভারত মহাসাগর মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার গত শনিবার একটি সতর্কতা জারি করে জানায় যে, নৌকার ক্রুদের নিরাপত্তা এখনও অনিশ্চিত। পরবর্তী এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, জলদস্যুরা হাইজ্যাক করা এই নৌকাটিকে মাদার ভেসেল হিসেবে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী অপারেশন আটলান্টা এই ঘটনার তদন্ত করছে। ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ অবিলম্বে রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা কেন্দ্র।
এডেন উপসাগর ও পশ্চিম ভারত মহাসাগরজুড়ে সোমালি জলদস্যুতার পুনরুত্থানের মধ্যেই এই নৌকা আটকের ঘটনা ঘটল। এর আগে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত জলদস্যুরা ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করে, যার মধ্যে কয়েকটি সোমালি উপকূল থেকে অনেক দূরে পরিচালিত হয়েছিল।
এরকমই একটি ঘটনার মধ্যে ইয়েমেনের আল-মুকাল্লা থেকে প্রায় ১৩৬ নটিক্যাল মাইল পূর্বে এসিবু ওয়ান তেল ট্যাংকার আটকের ঘটনাও রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে পুন্টল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানায় যে, এমটি অনার ২৫ ট্যাংকারের পাঁচজন ক্রুকে হত্যা করেছে জলদস্যুরা, পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনী জাহাজটি উদ্ধার করে। গত এপ্রিল মাস থেকে ট্যাংকারটি জিম্মি করে রাখা হয়েছিল এবং এই অভিযানের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ১৬ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করে।
ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের কারণে আগে থেকেই অস্থির থাকা এই অঞ্চলে জলদস্যুতার নতুন হুমকি সামুদ্রিক বাণিজ্যের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে হামলা এবং বাবে মান্দাবের কাছে সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোকে জটিল করে তুলেছে।
এই বিঘ্নগুলোর কারণে সমুদ্রযাত্রার সময় দীর্ঘ হয়েছে এবং ট্যাংকার পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আফ্রিকার চারপাশ ঘুরে যাওয়া কিছু তেলবাহী জাহাজকে এক মাস পর্যন্ত বেশি সময় ধরে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী ট্যাংকারগুলোর দৈনিক স্পট চার্টার রেট দশ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
গত এক দশকে আন্তর্জাতিক নৌ টহল এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার ফলে সোমালি জলদস্যুতা বহুলাংশে কমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক নৌকা আটকের এই ঢেউ দীর্ঘ সোমালি উপকূল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পুনরায় বাড়িয়ে দিয়েছে।
