জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানজুড়ে সহিংসতা ও তীব্র নিরাপত্তা সংকটের কারণে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মাঠপর্যায়ের দলগুলো জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি গ্রামীণ জনপদ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৫০ জন মানুষ পালিয়ে গেছেন। উম বারু এলাকার মুজবাত, ওরেরি, তারি এবং উম্ম হারাজ গ্রামগুলো থেকে এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা চলে যান।
অভিবাসন সংস্থার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে।
বাস্তুচ্যুত পরিবারের একটি অংশ একই এলাকার তুলনামূলক নিরাপদ অন্য স্থানগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশ চাদে চলে গেছেন। ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে ও অস্থিতিশীল রয়েছে।
জাতিসংঘের এই সংস্থার পক্ষ থেকে এর আগেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনার তথ্য জানানো হয়েছিল।
এর আগে অভিবাসন সংস্থাটি জানিয়েছিল, গত ২৪ অক্টোবর উম বারু এলাকার আরও তিনটি গ্রাম থেকে ৮৯৫ জন মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আক্ষরিক অর্থে আধাসামরিক বাহিনী রপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়।
নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে এই আধাসামরিক বাহিনীকে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধের জেরে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল।
চলমান এই সংঘাতে দেশজুড়ে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
উত্তর ও পশ্চিম দারফুরের কিছু অংশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে সুদানের দারফুরের পাঁচটি প্রদেশের প্রায় পুরোটাই রপিড সাপোর্ট ফোর্সের দখলে রয়েছে।
রাজধানী খার্তুমসহ দেশের বাকি বেশিরভাগ অঞ্চলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে সুদানের সেনাবাহিনী।
সুদানের মোট আয়তনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জুড়ে রয়েছে দারফুর অঞ্চল, যার আয়তন ১৮ লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি।
দেশের ৫ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার সিংহভাগ মানুষই মূলত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে বসবাস করেন।
