অধিকৃত পশ্চিম তীরের নান্দনিক জনপদ কুসরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রেখেছে বলে আল জাজিরা এবং মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে শনিবার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অবরুদ্ধ বাড়িতে অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি আটকা পড়ে আছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধারে এবং আহত এক ব্যক্তির চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের জন্য জরুরি সমন্বয় চলছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত নয় আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক অভিযানে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে এবং পার্শ্ববর্তী জমিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগ করেছে। রাস আল আইন এলাকায় অবরুদ্ধ থাকা পরিবারগুলো পানি, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের চরম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অবরুদ্ধ থাকা এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্বজন বা প্রতিবেশীদেরও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে কঠোরভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও শহরের মেয়রের কার্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তবেই সামান্য পরিমাণ খাদ্য বা জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যার জন্য অনেক সময় কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই পুরো এলাকাকে একটি বন্ধ সামরিক জোন হিসেবে ঘোষণা করায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ ও প্রস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও অবরুদ্ধ রয়েছে। মূল প্রবেশপথে লোহার গেট বসানো এবং নতুন করে বেশ কয়েকটি সামরিক বাধা সৃষ্টি করায় বাসিন্দাদের যাতায়াতের বিকল্প পথগুলোও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধারাবাহিক ঘটনাকে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার একটি সুদূরপ্রসারী ও সুপরিকল্পিত কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এর আগে এই ধরনের সহিংস পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসলেও স্থানীয় পর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। দখলকৃত অঞ্চলের সাধারণ ফিলিস্তিনিরা তাদের বহুপ্রজন্মের ভিটেমাটি এবং ঘরবাড়ি হারানোর হুমকিতে প্রতিনিয়ত অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন।
এই দীর্ঘস্থায়ী অবরুদ্ধ অবস্থা এবং উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের বেআইনি তৎপরতা পুরো অঞ্চলে একটি গভীর মানবিক সংকট ও ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই জবরদস্তি ও নির্যাতন বন্ধের জোরালো দাবি জানানো হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে এর কোনো কার্যকরী কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এবং তাদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এই জনপদের ভবিষ্যৎ আরও বেশি বিপন্ন হয়ে উঠবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে রাতের আঁধারেও সামরিক যানের উপস্থিতি এবং বসতি স্থাপনকারীদের উস্কানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত থাকে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো অবরুদ্ধ এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালালেও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের জোরালো হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই।
