শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীর বসতি

পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করুক ইসরায়েল: চীনের দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করুক ইসরায়েল: চীনের দাবি

পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে চীন। বাকুতে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারচোগের সঙ্গে এক বৈঠকে এই বার্তা দেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে এশিয়ায় মিথস্ক্রিয়া ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত সম্মেলনের সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বাকুতে গিয়েছিলেন ওয়াং ই।

বৈঠকে ওয়াং ই ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টকে জানান, ফিলিস্তিন সংকটকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে দেখছে বেইজিং। পরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

আলোচনাকালে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংকট সমাধানের একমাত্র সঠিক পথ হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। তিনি আরও বলেন, মানবিক বিপর্যয় রোধ করতে গাজা উপত্যকায় ত্রাণ প্রবেশের পথগুলো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি অগ্রাধিকার।

সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে চীন। বাকুতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বাকুর এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অংশগ্রহণে ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। মিশরীয় রাষ্ট্রপতির মুখপাত্রের বিবৃতি অনুযায়ী, সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি অর্জনের জন্য উভয় নেতাই পূর্বে কূটনৈতিক সমাধানের তাগিদ দিয়েছিলেন।

মার্চ মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সমালোচনা করে বেইজিং অবিলম্বে তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিল। ওয়াং ই তাঁর ইসরায়েলি সমকক্ষ গিদেওন সারকে জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় যখন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছিল এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়গুলো সমাধান হচ্ছিল, ঠিক তখনই ওই হামলাগুলো চালানো হয়।

মার্কিন-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তার তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে চীন থেকে, যা দেশটিকে ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার করে তুলেছে। তাছাড়া ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে একটি ২৫ বছর মেয়াদী ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বেইজিং।

গত দশকে প্রথমবারের মতো গত সেপ্টেম্বর মাসে কায়রো সফর করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওই সফরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বহিরাগত প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার রূপরেখা নতুন করে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গত এক দশক ধরে কাজ করে যাচ্ছে বেইজিং। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—উভয় দেশের সঙ্গেই শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক অংশীদারের মর্যাদা বজায় রেখেছে চীন।

banner
Link copied!