সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় খাদ্য সংকট

তহবিলের তীব্র ঘাটতি: গাজায় খাদ্য সহায়তা এক-তৃতীয়াংশ কমাল জাতিসংঘ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

তহবিলের তীব্র ঘাটতি: গাজায় খাদ্য সহায়তা এক-তৃতীয়াংশ কমাল জাতিসংঘ

তহবিলের মারাত্মক ঘাটতির কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য সহায়তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। সোমবার জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, আসন্ন শীত মৌসুমের ঠিক আগে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপে সহায়তা হারিয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজার ১১ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি।

গত মাসে এই সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ, যা থেকে এখন সহায়তা পাওয়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন পুনর্বিন্যস্ত বিতরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী খাদ্য রেশনের পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে।

এর ফলে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলো এখন থেকে দুটি খাদ্য পার্সেলের বদলে কেবল একটি করে পার্সেল এবং সেই সঙ্গে এক বস্তার পরিবর্তে ছোট আকারের আটার বস্তা পাবে।

প্রতিদিনের গরম খাবারের সরবরাহ আড়াই লাখ থেকে কমিয়ে দেড় লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত তথাকথিত হলুদ রেখার কাছাকাছি এলাকাসহ দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলো এখন প্রতিদিনের বদলে একদিন পর পর খাবার পাবে।

এছাড়াও পঁচাত্তর হাজার পরিবারকে প্রদান করা নগদ সহায়তার অর্থমূল্যও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ অর্থাৎ চৌদ্দ লাখ মানুষ মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে।

এই মোট সংখ্যার মধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষ চরম জরুরি অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, যাদের অনাহারে মৃত্যু ঠেকাতে অবিলম্বে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পায় না পাঁচ শিশুর মধ্যে মাত্র একজন।

এদিকে গাজায় বেকারত্বের হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে পুষ্টিকর খাবার কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গত অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতির পর খাদ্য নিরাপত্তায় সামান্য যে উন্নতি দেখা গিয়েছিল তা অত্যন্ত ভঙ্গুর বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

মানবিক সহায়তা আরও কমানো হলে এই অর্জনগুলো দ্রুত নস্যাৎ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আর্থিক সংকটের কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও কার্যক্রম অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।

এর ফলে পশ্চিম তীরে সহায়তা প্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা চার লাখ থেকে কমিয়ে দুই লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগামী ছয় মাস অর্থাৎ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজা ও পশ্চিম তীরে কার্যক্রম সচল রাখতে সংস্থাটির অবিলম্বে সাড়ে চার কোটি ডলার প্রয়োজন।

banner
Link copied!