কিউবাকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ গঠন এবং কিউবাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি’ ঘোষণার পর হাভানা সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিউবার সিভিল ডিফেন্স ইতোমধ্যে পরিবারের সুরক্ষার জন্য একটি বিস্তারিত গাইড প্রকাশ করেছে, যা দেশটির ‘সবার যুদ্ধ’ বা গেরিলা প্রতিরক্ষা নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।কিউবার জনগণ ও সেনাবাহিনী সামরিক প্রশিক্ষণে অত্যন্ত দক্ষ।
সোভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী সময়ে কিউবা ‘সবার যুদ্ধ’ বা ‘ওয়ার অব অল পিপল’ কৌশল গ্রহণ করে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং সিভিল ডিফেন্স নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গোটা জনগণকে প্রতিরক্ষায় যুক্ত করা। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেলেন ইয়াফে জানান, কিউবার প্রায় প্রতিটি মানুষই সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় রয়েছে।রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগকে চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি কিউবার উপকূলের কাছে মার্কিন নজরদারি ফ্লাইট উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ভয়াবহ রক্তস্নানের পরিস্থিতি তৈরি হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেনেজুয়েলার তুলনায় অনেক বেশি প্রশিক্ষিত ও সুসংগঠিত, যা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।কিউবার ভৌগোলিক অবস্থান তাদের প্রধান শক্তিমত্তার অন্যতম।
বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদ সতর্ক করেছেন যে, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের এতই কাছাকাছি যে কোনো সংঘাতের পাল্টা আঘাত মার্কিন শহরগুলোতে পৌঁছাতে পারে। ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেবাস্তিয়ান আরকোস অবশ্য দাবি করেন, কিউবার সামরিক প্রযুক্তি বেশ পুরোনো এবং দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন শক্তি মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের কম। তবে গোয়েন্দা তথ্যে কিউবার ড্রোন সংগ্রহের যে দাবি উঠেছে, হাভানা তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কিউবা আক্রমণ রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
হামলা হলে কিউবা থেকে বিপুল অভিবাসী ঢল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির জন্য সংকট তৈরি করবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী কিউবান-আমেরিকান লবির উপস্থিতিও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হাভানার স্লোগান এখন স্পষ্ট, ‘আকি নো সে রিন্দে নাদিয়ে’—অর্থাৎ ‘এখানে কেউ আত্মসমর্পণ করে না’।
