বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

গোপন হুমকি ও ক্যাটারিং ট্রাকে ট্রাম্পের নাটকীয় বিমান বদল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

গোপন হুমকি ও ক্যাটারিং ট্রাকে ট্রাম্পের নাটকীয় বিমান বদল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় ইরানের একটি সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি এড়াতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং সিবিএস নিউজ। সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর অনুরোধে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ঘটনার দিন আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে ক্যামেরার সামনে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার ভান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, মূল বিমানটিতে ওঠার পর ক্যামেরার আড়ালে বিমানের পাশ দিয়ে উঁচুতে ওঠানো একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে তাকে দ্রুত অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিকদের এবং হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে বড় বিমানটিতেই রেখে দেওয়া হয়েছিল, যা মূলত একটি নিরাপত্তা কৌশল বা ডেকয় হিসেবে কাজ করে।

সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আঙ্কারার কাছাকাছি এলাকায় একটি সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। দুই দেশের মধ্যে চলা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প নিজেকে ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যে বিমানে সাংবাদিকরা ছিলেন, সেটিকে প্রকৃত বিপদের মুখে ফেলা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি যে বিমানে চড়েছিলেন সেটিকেই প্রতিপক্ষের হামলার মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার ঝুঁকি বেশি ছিল।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই গোপন কৌশলের অংশ হিসেবে ছোট সামরিক বিমান সি-থ্রিটুএ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা সাধারণত উপরাষ্ট্রপতি ব্যবহার করে থাকেন। বিমানে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল, ফলে তারা বুঝতে পারেননি যে প্রেসিডেন্ট গোপনে অন্য বিমানে চলে গেছেন। যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প পুনরায় তার বহরের মূল বিমানে ওঠেন এবং সেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা করেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কাছে এই গোপন অভিযান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটুকু আগে থেকে পরিষ্কার ছিল। হোয়াইট হাউসের এই কৌশল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে ভ্রমণকারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে।

banner
Link copied!