শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

পেন্টাগনে পলিগ্রাফ টেস্ট চালুর কারণ ব্যাখ্যা করল গণমাধ্যম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

পেন্টাগনে পলিগ্রাফ টেস্ট চালুর কারণ ব্যাখ্যা করল গণমাধ্যম

পেন্টাগনে পলিগ্রাফ টেস্ট কেন পরিচালনা করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, আল জাজিরা এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। মার্কিন জয়েন্ট স্টাফের প্রায় পঞ্চাশ জন সামরিক কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিশ্লেষককে গত আগস্ট মাসে মিথ্যা শনাক্তকরণ বা পলিগ্রাফ পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পাওয়া সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমে কীভাবে প্রকাশ পেল, তা উদঘাটন করতেই মূলত এই নজিরবিহীন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে যে গ্রীষ্মের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের কর্মকর্তাদেরও এমন পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করার ঘটনাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক আচরণ বলে প্রকাশ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। একই সাথে প্রতিরক্ষা দপ্তরের বাইরে মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এফবিআই-কে যুক্ত করে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জুলাই মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে একটানা সংঘাতের কারণে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সমরাস্ত্র ঘাটতির খবরের সমান্তরালে সেখানে সামরিক অভিযানের তীব্রতাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাটতির দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে তাদের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ উন্নত সমরাস্ত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন যে সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফে কর্মরত দেড় থেকে দুই হাজার সদস্যের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজনের কাছে অস্ত্র মজুতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সংক্রান্ত ফাইলের প্রবেশাধিকার ছিল। এই সংকীর্ণ পরিধির কারণেই তদন্তকারীরা সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে সরাসরি যন্ত্রের সাহায্যে জিজ্ঞাসাবাদ করার কৌশল বেছে নিয়েছেন। তবে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউই গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে ব্যর্থ হননি বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

আইনি ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্তের মূল লক্ষ্য শুধু তথ্য ফাঁসকারী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা নয়, বরং ভবিষ্যতে কেউ যেন সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ না খোলে সে বিষয়ে একটি ভীতিকর বার্তা প্রতিষ্ঠা করা। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনকে এই পরীক্ষার বাইরে রাখা হলেও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কমান্ডারের ওপর এই তদন্ত চাপিয়ে দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ মনোবলে চরম আঘাত লেগেছে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কঠোর প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি এই ধরনের আক্রমণাত্মক তদন্তের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। অতীতেও স্পর্শকাতর ব্রিফিং ফাঁসের ঘটনায় তিনি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ করানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

তথ্য ফাঁসের এই ধারাবাহিক অভিযোগ পেন্টাগনের অভ্যন্তরে গভীর অবিশ্বাস ও প্রশাসনিক বিভেদ সৃষ্টি করেছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বা তদন্তমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপনীয় নথি বেআইনিভাবে বাইরে প্রকাশের ঘটনাকে প্রতিরক্ষা দপ্তর সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ নিয়ম এবং মার্কিন ফেডারেল আইনে পলিগ্রাফ পরীক্ষার ব্যবহারে কিছু বাধ্যতামূলক সুরক্ষামূলক আইনি শর্ত এবং সম্মতি গ্রহণের বিধান রয়েছে। জয়েন্ট স্টাফের অভ্যন্তরে নথিপত্র ব্যবহারের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ চলছে।

banner
Link copied!