গাম্বিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পর দেশটিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এএফপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী বানজুল ও এর আশেপাশের এলাকায় সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং রাষ্ট্রপতি আদামা ব্যারোর পদত্যাগ দাবি করেন। এই তীব্র অসন্তোষ ও সহিংসতার জেরে রাষ্ট্রপতি ব্যারো আগামী মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড তৈরি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতির বাসভবন এবং দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা নাওয়েকের সদর দপ্তরের সামনেও জড়ো হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি আদামা ব্যারো রাষ্ট্রীয় বার্তা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় এই বিদ্যুৎ সংকটকে একটি জাতীয় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী অক্টোবরের শেষের মধ্যে চব্বিশ মেগাওয়াটের একটি নতুন জেনারেটর স্থাপনের ঘোষণা দেন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের অংশ হিসেবে পঞ্চাশ মেগাওয়াটের একটি নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনাও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
নাওয়েকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্যালো জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের পর জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তীব্র গরমে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক চাপ পড়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে গাম্বিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি ব্যারো তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
