যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি ফেয়ারফোর্ডের কাছে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার প্রথম প্রহরে বিমানঘাঁটির অদূরে ওয়েলফোর্ড গ্রাম থেকে তাদের আটক করার পর এলাকাটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে বোমাসদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয়কারী দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের চারপাশে চারশত মিটারের একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশিং পুরো তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত বারোটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের দিকে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে তিনটি সন্দেহভাজন গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে মর্মে একটি জরুরি বার্তা পায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এরপরই বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় তিন দশমিক দুই কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ওয়েলফোর্ড গ্রাম থেকে ওই পাঁচজনকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়। দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট ব্যবহার করে বনাঞ্চলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা রঙের ভ্যানগুলো পরীক্ষা করে বিশেষায়িত দল। ড্রোন চিত্রে এমন তৎপরতা দেখা গেলেও এর সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিয়ে বাহিনীটি বিস্তারিত জানায়নি।
এলাকার পঁচাশিটি পরিবারের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের পাশের একটি অবকাশকেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। রাতে বাড়ি ফিরতে নিষেধ করা বাসিন্দাদের অনেকেই তাৎক্ষণিক নির্দেশে পরিহিত পোশাকেই ঘর ছেড়ে আসতে বাধ্য হন বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কনস্টেবল ম্যাগি ব্লাইথ জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটিকে সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে ঘোষণা করার এখতিয়ার তিনি কেন্দ্রীয় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় গ্রেপ্তারকৃতদের অভিযোগ গঠনের আগে সর্বোচ্চ চৌদ্দ দিন পর্যন্ত হেফাজতে রাখার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ঘটনাটিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে তদন্তে পূর্ণ তথ্য উন্মোচনের আগে অনুমাননির্ভর বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে সন্দেহভাজনরা বড় ধরনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তৎপর ছিল। ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনী তাদের কৌশলগত কার্যক্রমের অগ্রবর্তী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
তল্লাশি চালানো একটি ভ্যানের গায়ে একটি বাণিজ্যিক লোগো ও একটি মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান ছিল, যা স্বয়ংক্রিয় ভয়েসমেইল সেবায় সরাসরি চলে যায়। অনুরূপ নামের অপর একটি নিবন্ধিত ব্রিটিশ জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কোনো গাড়ি সেখানে সংশ্লিষ্ট থাকার দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে তাদের সব পরিবহন অক্ষত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো এলাকাটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর জোরদার উপস্থিতি আরও কয়েক দিন বজায় থাকবে।
