মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপে রাখতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই বড় জয়কে কাজে লাগানোর অঙ্গীকার করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে ওয়াশিংটনে আগামী দুই বছর রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনের পর প্রথম জনসমক্ষে এসে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নির্মাণাধীন বলরুম ঘুরে দেখান। তার নীতিমালার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ডেমোক্র্যাটদের সিনেট দখল করতে সহায়তা করে। দলটি অন্তত ৫৪-৪৪ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি রিপাবলিকান ঘাঁটির আসন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৩০টি আসন লাভ করে।
এই প্রথম ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের উভয় কক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা হাকিম জেফ্রিস জানিয়েছেন, নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা মূলত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দেবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাকিম জেফ্রিস বলেন, আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কাজ করি না। আমরা আমেরিকান জনগণের জন্য কাজ করি। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মতো প্রতিনিধি পরিষদের কাজ করার দিন শেষ হয়ে গেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের দলের প্রতি এমন ভোটারদের দাবি শোনার আহ্বান জানান, যারা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংকটে রয়েছেন। মামদানী বলেন, শুধু ক্ষমতা দখল করাই যথেষ্ট নয়। আমাদের তা ব্যবহার করতে হবে। এখন ডেমোক্র্যাট দলের জন্য কিছু করে দেখানোর সময় এসেছে।
নির্বাচনে দলীয় পরাজয়ের পরের দিন সকালে সাংবাদিকদের ডেকে হোয়াইট হাউসে নিজের তৈরি করা বলরুমটি দেখান ট্রাম্প। তিনি বলেন, যখন আমার সমালোচনা করা হয় যে কেন আমি হোয়াইট হাউস নিয়ে ব্যস্ত, তখন বলি—কারণ হোয়াইট হাউস আমেরিকার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতীক এবং এটি নিখুঁত হওয়া উচিত। ডেমোক্র্যাটরা ধ্বংসাত্মক কিছু না চাইলে তাদের সঙ্গে বনিবনা হতে পারে বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, তার কাছে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
জনপ্রিয়তাহীন ইরান যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার চড়া ব্যয়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে রক্ষণশীল ঘাঁটিগুলোর ভোটাররাও ব্যাপকভাবে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটরা ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম কোনো সিনেট আসন জয় করে এবং গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে ক্ষমতাচ্যুত করে দীর্ঘদিনের খরা কাটায়। মহামন্দার পর কানসাস এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত করে এবং সাউথ ক্যারোলাইনাতেও জয় পায় ডেমোক্র্যাটরা।
আগামী জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনকে তদন্তের আওতায় আনতে এবং বড় বড় আইন পাসে ছাড় আদায়ে তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরাজয়ের ফলে রিপাবলিকানদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্বেও বড় ধরনের ওলটপালট ঘটেছে। হাউজ স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, তিনি আগামী বছর তার দলের নেতৃত্ব দেবেন না।
এই পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, এই হারের মূল কারণ ওই যুদ্ধ। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিসান্টিস এই ফলাফলকে দলের জন্য চরম অস্তিত্বের সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই নির্বাচনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি হয়েছে। মিশিগানের উন্মুক্ত সিনেট আসনে জয় পেয়ে আব্দুল এল-সায়েদ ট্রাম্প সমর্থিত মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এই কক্ষের প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস জর্জিয়ায় মার্কিন ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর এবং ডেব হাল্যান্ড নিউ মেক্সিকোতে প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।
