বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

মতপার্থক্য দূর করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চান ট্রাম্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৪, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

মতপার্থক্য দূর করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চান ট্রাম্প

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে এক ঐতিহাসিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। রয়টার্স ও সিনহুয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুই নেতা কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিশন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ নয় বছরের মধ্যে এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছালে তাকে জাঁকজমকপূর্ণ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

বৈঠকের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন যে এই নতুন দ্বিপাক্ষিক ভিশন আগামী তিন বছর এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সঠিক কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। তিনি তার বক্তব্যে গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার একটি বিস্তৃত রূপরেখা ব্যাখ্যা করেন। শি জিনপিংয়ের মতে, এই নতুন কাঠামোর মূল ভিত্তি হবে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং এখানে প্রতিযোগিতা থাকবে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যগুলো যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেই স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতির ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের এই ইতিবাচক প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চান। তিনি স্পষ্ট করেন যে মতপার্থক্য দূর করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চান ট্রাম্প এবং এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। দুই নেতাই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কটিই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত।

ট্রাম্পের সম্মানে বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নৈশভোজে শি জিনপিং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের নানাদিক স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট দেখা যায় যে পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং লাভজনক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখাই এই সম্পর্কের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। দুই দেশের এই সম্পর্ককে যেকোনো মূল্যে সফল করতে হবে এবং একে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন যে পারস্পরিক সহযোগিতা থেকে দুই দেশই সমানভাবে লাভবান হয়, আর যদি সংঘাত তৈরি হয় তবে উভয় পক্ষই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আনুষ্ঠানিক আলোচনার সময় দুই দেশের সর্বশেষ বাণিজ্য আলোচনার চমৎকার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন শি জিনপিং। তিনি সামগ্রিকভাবে এই আলোচনার ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফলাফলের ভূয়সী প্রশংসা করে একে দুই দেশের সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বিরাট সুসংবাদ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্পও তার প্রতিক্রিয়ায় চীন সফর করতে পারাকে তার জন্য একটি বড় সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একজন অত্যন্ত মহান নেতা এবং চীনকে একটি অনন্য মহান দেশ হিসেবে বর্ণনা করে চীনা জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই রাষ্ট্রপ্রধান বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শনে যান। ইউনেস্কো ঘোষিত ৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটি ঘুরে দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গভীর বিস্ময় ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়ই অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান মানুষের দেশ। এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে। নৈশভোজে শি জিনপিং ৫৫ বছর আগের ঐতিহাসিক পিং-পং কূটনীতির কথা স্মরণ করে বলেন যে দুই দেশের জনগণের সক্রিয় সম্পৃক্ততাই এই সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি।

banner
Link copied!