বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে শুক্রবার সকালে ইংল্যান্ডের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণার আগেই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গণমাধ্যমে পুরো দল ফাঁসের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তুমুল শোরগোল তৈরি হয়েছে। দলের প্রধান কোচ টমাস টুখেল এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে তিনি দলে প্রতিভার চেয়ে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক মেলবন্ধন ও নিঃস্বার্থ মনোভাবকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।দল ঘোষণার আগেই তথ্য বাইরে চলে যাওয়ায় পুরো ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ার স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি নিজের স্তব্ধতা ও হতাশা প্রকাশ করেন। টুখেল ম্যাগুয়ারের এই আগাম প্রতিক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিটিকে জানান যে খেলোয়াড়দের হতাশা থাকাটাই স্বাভাবিক এবং তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলার কারণেই তথ্যগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
সাধারণত সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের আমলে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এভাবে ঢালাওভাবে বাইরে আসার নজির ছিল না। ম্যাগুয়ার ছাড়াও সাউথগেটের প্রিয় পাত্র ফিল ফোডেন ও কোল পামার এবার টুখেলের বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেছেন। সাউথগেট ড্রেসিংরুমের ঐক্য এবং জনসাধারণের সাথে খেলোয়াড়দের সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রশংসিত হলেও টুখেলের অধীনে প্রথম বড় পরীক্ষায় এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল।
টুখেল পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তিনি কেবল এমন ২৬ জন খেলোয়াড়কে বেছে নিয়েছেন যাদের ওপর তার শতভাগ আস্থা রয়েছে। মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরে নিজেদের অহংকার ও অহমিকা ভুলে যারা দলের স্বার্থে যেকোনো ভূমিকা মানিয়ে নিতে প্রস্তুত, তাদের নিয়েই এবারের বিশ্বকাপ মিশন সাজিয়েছেন এই জার্মান কোচ। দেশের প্রতিটি সমর্থককে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন যে তার কাজ কেবল সবচেয়ে মেধাবী ২৬ জনকে দলে নেওয়া নয়, বরং যারা দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে অবদান রাখতে পারবে তাদের সুযোগ দেওয়া।
এফএ কাপ ফাইনাল এবং ইউরোপা লিগ ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলার ম্যাচের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা স্কোয়াড প্রকাশের সময় কিছুটা পিছিয়েছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড়দের অসতর্ক কথোপকথনের কারণে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই সব নাম গণমাধ্যমের হাতে চলে যায়।
দলের বর্তমান সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত লিডারশিপ গ্রুপের প্রশংসা করে টুখেল বলেন যে তারা ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতি বজায় রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ম্যাচে খেলোয়াড়দের বাদ পড়া বা সাইডবেঞ্চে বসে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। দলের স্বার্থে যারা নিজেদের ব্যক্তিগত অহংকার বিসর্জন দিতে পারবেন না, তাদের নিয়ে বড় টুর্নামেন্টে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নন কোচ। কোনো খেলোয়াড় এই মানসিকতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট পাচ্ছেন কি না, তা টুর্নামেন্ট চলাকালীন মাঠে বসে দেখতে চান না তিনি।
বিশ্বকাপের এই চূড়ান্ত দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও টুখেল তার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। দল ফাঁসের ঘটনা এবং বাদ পড়া ফুটবলারদের আচরণ কোচের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে তিনি সঠিক খেলোয়াড়দেরই বেছে নিয়েছেন।
