শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল তথ্য ছড়ানোর ফাঁদ রুখবে গুগল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৩, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল তথ্য ছড়ানোর ফাঁদ রুখবে গুগল

সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষে থাকা গুগলের এআই ওভারভিউ এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় চ্যাটবটকে সহজেই বিভ্রান্ত করে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভুয়া তথ্য ছড়ানোর এক নতুন জালিয়াতি উন্মোচন করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই নিরাপত্তা ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এই কারসাজির মাধ্যমে চ্যাটবট ও সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য, ওষুধ এবং ব্যক্তিগত অর্থায়নের মতো সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়েও সম্পূর্ণ ভুল ও পক্ষপাতদুষ্ট উত্তর দেওয়ানো সম্ভব হচ্ছে।এমনকি মাত্র ২০ মিনিটের সাধারণ প্রচেষ্টায় চ্যাটজিপিটি ও গুগল সার্চকে দিয়ে একজন সাংবাদিক নিজেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হ্যামবার্গার খাদক হিসেবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

বিবিসির জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি সাংবাদিক টমাস জার্মেইনের চালানো এই পরীক্ষাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক মারাত্মক প্রযুক্তিগত দুর্বলতা সবার সামনে এনেছে। তিনি তার নিজস্ব ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে একটি সাধারণ নিবন্ধ প্রকাশ করে দাবি করেন যে তিনি একটি প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এর ঠিক পরদিনই গুগলের এআই ওভারভিউ এবং ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রশ্নের জবাবে এই মিথ্যা তথ্যটি শতভাগ সত্য হিসেবে পরিবেশন করতে শুরু করে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এই পদ্ধতিটির জন্য কোনো জটিল কোডিং বা হ্যাকিংয়ের প্রয়োজন হয় না, বরং সাধারণ এসইও কৌশলের মাধ্যমে ইন্টারনেটে একটি সুনির্দিষ্ট লেখা পোস্ট করলেই এআই সিস্টেমগুলোকে বোকা বানানো সম্ভব।

সার্চ ইঞ্জিন এবং এআই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালগরিদমিকের প্রতিষ্ঠাতা লিলি রে এই পরিস্থিতিকে ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছেন যেখানে সার্চ ইঞ্জিনগুলো আগের মতো ১০টি আলাদা নীল লিংকের পরিবর্তে সরাসরি একটি মাত্র চূড়ান্ত উত্তর সামনে হাজির করে। এর ফলে সাধারণ পাঠক প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা নিজে থেকে যাচাই করার সুযোগ পান না এবং স্ক্রিনে আসা উত্তরটিকে সরাসরি সত্য বলে গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য ও অবসরের মতো জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়েও একই কৌশল ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্তরগুলোকে প্রভাবিত করার বড় ধরনের চক্র কাজ করছে।

সাধারণত চ্যাটবটগুলো তাদের নিজস্ব মডেলে সংরক্ষিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জবাব তৈরি করলেও অনেক সময় তারা নতুন তথ্যের জন্য ইন্টারনেটে সরাসরি লাইভ অনুসন্ধান বা সার্চ চালায়। এই সময় মাত্র একটি সুকৌশলে সাজানো ব্লগপোস্ট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুয়া পোস্ট পুরো এআই সিস্টেমের লজিককে ভুল পথে চালিত করতে পারে। এই জালিয়াতির খবর ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার পর গুগল তাদের মূল অ্যান্টি-স্প্যাম নীতিমালায় কিছু স্পষ্টীকরণ ও পরিবর্তন এনেছে। তারা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্তরগুলোকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করার যেকোনো অপচেষ্টা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মবিধির সরাসরি লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে।

গুগলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা জেনারেটিভ এআই সার্চ ফিচার চালুর আগে থেকেই স্প্যামিং ও জালিয়াতি রুখতে কাজ করে আসছে। তবে স্বাধীন গবেষকদের মতে পর্দার আড়ালে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই সমস্যা সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে এবং এখনো এআই সিস্টেমগুলোকে ভুল তথ্যের ফাঁদে ফেলার সুনির্দিষ্ট উপায়গুলো সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন জেনারেটিভ এআই টুলের অতি-নির্ভরশীলতা মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে এবং ইন্টারনেটের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে সার্চ জায়ান্টদের লড়াই আগামী দিনগুলোতে আরও কঠিন আকার ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

banner
Link copied!