দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা কিম সু-হিউনের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং তার ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস করার অভিযোগে এক ইউটিউবারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেছে দেশটির পুলিশ। প্রায় ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার থাকা ওই ইউটিউবারের নাম কিম সে-উই, যিনি নিজের আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতি করেছেন বলে প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি টেক্সট মেসেজের স্ক্রিনশট বিকৃত করার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ভুয়া অডিও ফাইল ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছিলেন।এই পরিকল্পিত সাইবার অপরাধের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম শীর্ষ অভিনেতার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ভুয়া অডিও ফাইলটিতে এমনভাবে কণ্ঠস্বর উপস্থাপন করা হয়েছিল যাতে মনে হয় প্রয়াত actress কিম সে-রন নাবালিকা থাকা অবস্থায় কিম সু-হিউনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। গত বছর মাত্র ২৪ বছর বয়সে অভিনেত্রী কিম সে-রনের আত্মহ্যার পরপরই এই স্পর্শকাতর গুঞ্জনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিনেতা কিম সু-হিউন শুরু থেকেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসলেও সাইবার দুনিয়ার তীব্র নেতিবাচক প্রচারণার মুখে তার পেশাদার জীবন থমকে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চুংআং ইলবো-তে প্রকাশিত পুলিশি নথিতে বলা হয়েছে, এই জালিয়াতি অভিনেতার টিকে থাকার পেশাগত ভিত্তিটাই চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে। মারাত্মক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই অভিনেতা বর্তমানে নিবিড় মানসিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এদিকে অভিযুক্ত ইউটিউবার কিম সে-উই নিজের চ্যানেলে একটি নতুন ভিডিও পোস্ট করে পুলিশের আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সরকারি এই আইনি পদক্ষেপ মূলত তার নিজস্ব অনুসন্ধানী তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপকৌশল মাত্র। তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন যে কিম সে-রনের ফোন থেকে পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশটগুলো সূক্ষ্মভাবে এআই এডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জগতে তারকাদের নৈতিকতার মানদণ্ডকে অত্যন্ত কঠোরভাবে বিচার করা হয়, যেখানে সামান্যতম বিতর্ক বা গুজভও একজন শীর্ষ তারকার জীবন চিরতরে অন্ধকার করে দিতে পারে। প্রয়াত অভিনেত্রী কিম সে-রন নিজে ২০২২ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর একটি ঘটনায় জরিমানার মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে ব্যাপক অনলাইন কটূক্তির শিকার হচ্ছিলেন।
পরবর্তীতে তার মৃত্যুর সুযোগ নিয়ে ইউটিউবার এবং অভিনেত্রীর পরিবারের কিছু সদস্য যৌথভাবে এই ভুয়া সম্পর্কের দাবিটিকে জনসমক্ষে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালান। কিম সু-হিউনের এজেন্সি শুরু থেকেই এই কথিত সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসছিল, কিন্তু এআই প্রযুক্তির নিখুঁত জালিয়াতির কারণে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একজন মানুষের সামাজিক পরিচয় ও জীবিকা ধ্বংস করা সম্ভব, এই ঘটনাটি তারই এক মারাত্মক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
