মেক্সিকো বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বলে রয়টার্স এবং আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। দেশটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয় যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো উদ্বোধনী ম্যাচে সর্বোচ্চ তিনটি লাল কার্ড দেখার ঘটনা ঘটল। এর আগে নিজেদের খেলা বিগত সাতটি উদ্বোধনী ম্যাচের কোনোটিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি স্বাগতিক মেক্সিকো। এবার নিজেদের ঘরের মাঠে সেই দীর্ঘদিনের কালো ইতিহাস ভেঙে দুর্দান্ত মেক্সিকোর জয় উদযাপনে মেতে উঠেছে পুরো স্টেডিয়ামের দর্শকরা।
ম্যাচের প্রথম থেকেই স্বাগতিক ফুটবলাররা আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। খেলার মাত্র ৯ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভেঙে বিশ্বকাপের ২০ বছরের ইতিহাসে দ্রুততম প্রথম গোলটি করেন মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে এটি তৃতীয় দ্রুততম গোল হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সিজার সাম্পাইও মাত্র ৫ মিনিটে এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানির ফিলিপ লাম ৬ মিনিটে গোল করেছিলেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের আরও অন্তত তিনটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে স্বাগতিক দল যার ফলে ব্যবধান আর বাড়েনি। এরপর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে রাউল হিমিনেজ আরেকটি চমৎকার গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এবং মেক্সিকোর জয় প্রায় নিশ্চিত করেন।
শারীরিক কসরত এবং তীব্র উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কয়েকবার উত্তেজনা ছড়াতে দেখা যায়। মেক্সিকো দল পুরো ম্যাচে প্রায় ৬০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ৪০ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। খেলার ৫০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মাথায় মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে অবৈধভাবে আটকে দিয়ে এই বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ফলে বিরতি থেকে ফিরেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। এরপর ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আক্রমণ করতে গিয়ে মেক্সিকোর ডিফেন্ডারকে মারাত্মক ফাউল করায় দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই তীব্র ফাউল এবং কার্ডের আধিক্য আগামী ম্যাচগুলোতে মেক্সিকোর ফুটবলারদের শৃঙ্খলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সেজার মন্তেস সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে স্বাগতিক দলও ১০ জনের দলে পরিণত হয়। আজতেকা স্টেডিয়ামে অতীতে মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ হারেনি এবং এই ম্যাচসহ মোট আটটি ম্যাচের ছয়টিতে জয় ও দুটিতে ড্র করেছে তারা। গ্যালারির মেক্সিকান ওয়েভ এবং দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। এই ঐতিহাসিক মেক্সিকোর জয় তাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেক সহজ করে দিল বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ম্যাচ শেষে রেকারির কিছু সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেও নিজেদের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্য দিকে মেক্সিকান কোচ তার দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন এবং আজতেকার দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রথম ম্যাচ থেকেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ায় গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো দল। আগামী দিনগুলোতে এই গ্রুপের অন্য ম্যাচগুলোর ওপর সবার নজর থাকবে। মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন যে এই জয়ের ধারা টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডগুলোতেও বজায় থাকবে।
