বাংলাদেশ সরকার আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে বলে শুক্রবার ঢাকার গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন অর্থবছরের জন্য এই বিশাল বাজেট উপস্থাপন করার সময় প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই বাজেটে সারাদেশে সব ধরনের ধর্মীয় উপাসনালয়ের সার্বিক উন্নয়নে মোট ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার জন্য জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশের লাখ লাখ আলেম এবং ধর্মীয় সেবকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট দূর করতে বড় সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মসজিদের সম্মানিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মোট ৮ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশের মোট ৬ হাজার ৪৩৮টি নিবন্ধিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৯ হাজার ৫২০ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব সরাসরি এই বিশেষ ভাতার আওতার মধ্যে এসেছেন। নতুন এই বিপুল বরাদ্দের ফলে এই সামাজিক ও ধর্মীয় কল্যাণমূলক সুবিধার পরিধি দেশজুড়ে আরও অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নতুন বরাদ্দ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনিবন্ধিত মসজিদগুলোর ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনতে কত সময় নেবে। তবে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই বিশেষ সুবিধা সম্প্রসারণ করার একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই সম্মানী সুবিধা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ অঞ্চলের ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় সেবকদের সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ কর্মকর্তা ও ওলামা সমাজ সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মসজিদেই ইমাম এবং মুয়াজ্জিনরা অত্যন্ত স্বল্প ভাতায় দ্বীনি সেবা দিয়ে থাকেন যা বর্তমান বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নতুন বাজেটে এই খাতের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ায় দেশের প্রান্তিক ধর্মীয় সেবকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সেবার মান আরও মজবুত হবে বলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ মনে করছেন।
জাতীয় বাজেটের এই বিশেষ ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং আলেম সমাজের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা কেরামরা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই প্রকল্প সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত হলে তা তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অনন্য ভূমিকা রাখবে। একই সাথে অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবকদের অন্তর্ভুক্ত করায় এটি জাতীয় সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্য রক্ষায় বড় অবদান রাখবে। আগামী দিনগুলোতে এই বরাদ্দ ধাপে ধাপে কীভাবে বণ্টন করা হবে তা নিয়ে মন্ত্রণালয় একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করবে বলে সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে।
