শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো উয়েফার অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো উয়েফার অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফা থেকে একজন নারী কর্মীকে বড় অঙ্কের বিদায়ী ভাতা বা সেভারেন্স প্যাকেজ দেওয়ার সমস্ত অভিযোগ অত্যন্ত জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর এই চাঞ্চল্যকর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, উয়েফায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এক নারী কর্মীকে সংস্থাটি ছয় অঙ্কের একটি বিদায়ী অর্থ প্রদান করেছিল।

তবে ফিফা এবং উয়েফার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। ফিফা প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে যে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনীত এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন বা অনুচিত আচরণের প্রশ্নই ওঠে না এবং এই ধরনের মানহানিকর ইঙ্গিত সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ফিফার পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে অতীতে বা বর্তমানে উয়েফা কিংবা ফিফার কোনো কর্মী কখনোই জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি।

অন্যদিকে উয়েফা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আংশিক সত্যতা স্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ওই কর্মীকে বিদায়ীকালীন একটি নির্দিষ্ট আর্থিক পরিশোধ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের টিউশন ফি বাবদ অর্থও প্রদান করেছিল সংস্থাটি। তবে উয়েফা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এই ধরনের সমস্ত অর্থ প্রদান তৎকালীন কার্যকর নিয়মনীতি এবং প্রবিধানের সম্পূর্ণ অনুসারেই করা হয়েছিল। সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালকদের অনুমোদন সাপেক্ষেই এই বিদায়ী প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।

উয়েফা আরও জানিয়েছে যে তাদের অভ্যন্তরীণ প্রবিধান ও নীতিমালা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও কঠোর করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা আধুনিক ও উচ্চমানের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার পক্ষ থেকে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই নারী কর্মীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার সময় জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দুই হাজার নয় সাল থেকে দুই হাজার ষোলো সাল পর্যন্ত উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি ফিফা সভাপতির পদে নির্বাচিত হন।

বর্তমান এই নতুন বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল যখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইতিমধ্যে বেশ কিছু কঠিন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে রয়েছেন। সম্প্রতি ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন তিনি, যার তীব্র সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন ফিফা প্রধান। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল এবং কিছু দেশ থেকে তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল।

বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা এই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর ফুটবলের অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। যদিও ফিফা ও উয়েফা উভয় পক্ষ থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক ফুটবলের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সমালোচকরা এই ঘটনাকে বর্তমান নেতৃত্বের নৈতিক সংকটের একটি বড় নমুনা হিসেবে অভিহিত করছেন। আগাম দিনগুলোতে এই সংকট কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন বিশ্ব ক্রীড়া মহলের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!