ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার প্রাক্কালে দলগুলোর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দলবদলের বাজারে বড় দলগুলো তাদের স্কোয়াড গুছিয়ে নেওয়ার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। আসন্ন মৌসুমে কোন খেলোয়াড়রা নিজ নিজ ক্লাবের সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারেন, তা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর এমন কিছু তারকার নাম উঠে এসেছে, যাদের পারফরম্যান্সের ওপর দলগুলোর ভাগ্য অনেকাংশে নির্ভর করছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের মিডফিল্ডে ডেকলান রাইসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত মৌসুমে গানার্সদের রক্ষণাত্মক স্থিতিশীলতা এবং সেট পিস থেকে গোল করার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা ব্রুনো ফার্নান্দেস গত মৌসুমে রেকর্ড সংখ্যক সুযোগ তৈরি করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ইউনাইটেডকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তার এই ধারাবাহিক ফর্ম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে চেলসির কোল পামার এবং ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হল্যান্ড নিজ নিজ দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে মাঠে নামবেন।
লিভারপুলের সাফল্যে ডমিনিক সোবোসলাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। তার বহুমুখী পজিশনিং এবং পাসিং ক্ষমতা অলরেডদের আক্রমণভাগকে সবসময় গতিশীল রাখে। অন্যদিকে স্প্যানিশ লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে দলটির শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা। গত মৌসুমে দুর্দান্ত গোল করার পর এবার কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে তার কাছ থেকে আরও বড় কিছু প্রত্যাশা করছে লস ব্লাঙ্কোস সমর্থকরা। পাশাপাশি বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে কাতালানদের মূল ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছেন।
জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে হ্যারি কেইন গোলমেশিন হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় তার গোলের রেকর্ড ক্লাবটিকে দুর্দান্ত সাফল্য এনে দিয়েছে। পিএসজির হয়ে ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া মারকুস রাশফোর্ডের ভবিষ্যৎ ক্লাব ক্যারিয়ার কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের অন্ত নেই। সব মিলিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের এই নতুন মৌসুমে রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী।
