আগামী দুই হাজার সাতাশ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বলে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে। প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটি জানিয়েছে যে চার দলের এই ফাইনাল ফোর টুর্নামেন্টটি আগামী দুই হাজার সাতাশ সালের দুই থেকে সাত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশ নেবে স্পেনের শীর্ষস্থানীয় চারটি ক্লাব, যার মধ্যে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং রিয়াল সোসিয়েদাদ।
টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের লাইনআপ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রিয়াল সোসিয়েদাদের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ এবং অপর সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ হবে আতলেতিকো মাদ্রিদ। সেমিফাইনালের লড়াই শেষে বিজয়ী দুটি দল শিরোপার জন্য ফাইনালে একে অপরের মোকাবিলা করবে। ম্যাচগুলোর মূল ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামটি ইস্তাম্বুলের বাকিরকয় বা বাশাশেহির অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় সাতাত্তর হাজার পাঁচশো। এই স্টেডিয়ামটি এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল আয়োজন করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল।
সৌদি আরব দুই হাজার বিশ সাল থেকে টানা এই টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে আগামী দুই হাজার সাতাশ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এশিয়ান কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে দুটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় সৌদি আরবকে এবারের আসরের আয়োজক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন বিকল্প ভেন্যু হিসেবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলকে বেছে নিয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই চুক্তির ফলে স্প্যানিশ ফুটবলের আর্থিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে। টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি বড় অংশ স্পেনের পুরুষ ও নারী বিভাগের প্রায় এক হাজার ক্লাবকে সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে। ইউরোপের বাইরে মরক্কো এবং সৌদি আরবের পর তুরস্ক হবে তৃতীয় দেশ, যারা স্প্যানিশ সুপার কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট আয়োজনের গৌরব অর্জন করবে। বিশ্বজুড়ে একশো পঞ্চাশটিরও বেশি দেশে এই টুর্নামেন্ট সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা এটিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও লোভনীয় ইভেন্টে পরিণত করেছে।
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, বার্সেলোনা গত দুই হাজার ছাব্বিশ সালের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। হান্সি ফ্লিকের দল এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে তুরস্কে পা রাখবে। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নতুন ভূগোলে দর্শকরা কেমন সাড়া দেবেন, তবে ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীদের এক অভূতপূর্ব উৎসবের অপেক্ষা করছে। বাণিজ্যিক দিক থেকে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন সফল করতে একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান তুর্কি এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে। ইস্তাম্বুলের এই মহাযজ্ঞ সফল করার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং সব ঠিকঠাক থাকলে দুই হাজার আঠারো সালের সংস্করণে টুর্নামেন্টটি আবারও তার চেনা ঠিকানা সৌদি আরবে ফিরে যাবে।
