ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামার আগে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ এনজো মারেস্কা স্বীকার করেছেন যে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিতে সফল হতে এবং বড় ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন রয়েছে, আল জাজিরা ও ক্লাবটির অফিসিয়াল সাইটের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সিটির দীর্ঘদিনের সফল কোচ পেপ গার্দিওলার প্রস্থানের পর দলের দায়িত্ব নেওয়া এই ইতালিয়ান কোচ রবিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তার প্রিমিয়ার লিগের প্রথম হোম ম্যাচ পরিচালনা করবেন। পেপ গার্দিওলার অধীনে ক্লাবটি এক দশকে কুড়িটি ট্রফি জিতেছিল, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। সেই দুর্দান্ত সাফল্যের উত্তরাধিকার বহন করা এবং দল পুনর্গঠন করা মারেস্কার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মৌসুমের শেষভাগে পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর মারেস্কা যখন দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই স্কোয়াডে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ক্লাবের মাঝমাঠের প্রধান ভরসা রদ্রি ছাড়াও জন স্টোনস এবং বার্নার্দো সিলভার মতো অভিজ্ঞ তারকারা দল ছেড়ে চলে গেছেন। এছাড়া তরুণ উইঙ্গার সাভেনিওর দলবদল নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচে আর্সেনালের কাছে তিন গোলে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই নতুন মৌসুমে সিটির সামনে যে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দল গোছাতে এবং নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরে আসতে কিছুটা ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন নতুন কোচ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মারেস্কা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে স্কোয়াডে এতগুলো পরিবর্তন আসার পরও তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে চান না। ক্লাবটির বিগত পনেরো বছরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য বজায় রাখা এবং প্রতিটি টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তিনি ম্যানচেস্টারে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে মাত্র এক মাস আগে দলের দায়িত্ব নেওয়ায় সবকিছু পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে একটু সময় লাগছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। সমর্থকরা জয়ের মাধ্যমেই আনন্দ খুঁজে পান এবং জয় না পেলে হতাশা তৈরি হয়—এই বাস্তব বিষয়টি তিনি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করেন।
মারেস্কা আরও জানান যে খেলোয়াড়রা যখন দল ছাড়তে চান, তখন তাদের ধরে রাখা বা মানসিকতা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়। রদ্রির বিদায়ের পর সাভেনিওর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্লাব ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় সংযুক্তি নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। বর্তমান স্কোয়াডের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি জানিয়েছেন যে তাদের লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব মাঠের খেলায় কাঙ্ক্ষিত ফল ফিরিয়ে আনা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দলবদল বাজারের কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
