রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

অ্যানফিল্ডে নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে ড্র করল লিভারপুল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

অ্যানফিল্ডে নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে ড্র করল লিভারপুল

লিভারপুলের নতুন কোচ আনদোনি ইরাওলা শনিবার অ্যানফিল্ডে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে দুই দুই ড্র করে ঘরের মাঠে হার এড়িয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর মুনোজের চমৎকার গোলে রেডসরা পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরে আসে। এর ফলে টানা তৃতীয় মৌসুমেও অ্যানফিল্ডে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে সফরকারী ফরেস্ট দলের।

গত মৌসুমে ঐতিহাসিক কুড়িটি শীর্ষ লিগ শিরোপা জয়ের পর আর্নে স্লটের স্থলাভিষিক্ত হওয়া ইরাওলার জন্য ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচটি একেবারেই সহজ ছিল না। নটিংহাম ফরেস্টের পক্ষে ড্যান এনডোয়ে এবং মরগান গিবস-হোয়াইট একটি করে গোল করে দলকে দুই এক ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে লিভারপুলের পক্ষে প্রথম গোলটি করেছিলেন আলেকজান্ডার ইসাক, যা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফিরিয়েছিল।

খেলার প্রথমার্ধ থেকেই ফরেস্টের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা লিভারপুলের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিতে শুরু করে। দীর্ঘ বল ধরে এগিয়ে যাওয়া ফরেস্টের ফরোয়ার্ডরা বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে এবং ম্যাচের চব্বিশ মিনিটে এনডোয়ের গোলে তারা প্রথম লিড পায়। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক অ্যালিসনের দক্ষতায় রক্ষা পায় স্বাগতিকরা, অন্যথায় ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় লিভারপুল এবং গাকপোর নিখুঁত ক্রস থেকে ইসাক সহজ শটে গোল করে সমতা ফেরান। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ সেই স্বস্তি টেকেনি, কারণ লিভারপুলের রক্ষণভাগের ভুলে ফরেস্ট দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেয়। গিবস-হোয়াইট পেনাল্টি থেকে গোল করে সফরকারীদের পুনরায় এগিয়ে নেন এবং ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেন।

পরাজয় যখন একপ্রকার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা মুনোজ দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাটিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করে তিনি দলের পরাজয় রোধ করেন এবং নতুন কোচের হোম ডেবিউ রক্ষা করেন। এই অমূল্য পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে দুই দলই তাদের মৌসুমের দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থেকে মাঠ ছাড়ে।

ম্যাচের পর দুই দলের কোচই নিজেদের কৌশলগত ভুলত্রুটিগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছেন। লিভারপুল কর্তৃপক্ষ ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে দলের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে প্রিমিয়ার লিগের লড়াইয়ে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে দলগুলোকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

লিভারপুলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারায় ফিরতে খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন কোচ ইরাওলা। দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতায় এই ধরনের ড্র দলের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে শেষ মুহূর্তের গোল রক্ষা পাওয়ার স্বস্তি এনে দিয়েছে। সমর্থকরাও তাদের প্রিয় দলের কাছ থেকে আরও ভালো জয়ের প্রত্যাশা করছেন এবং আগামী সপ্তাহের ম্যাচগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন।

banner
Link copied!