সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্ক্যামারদের হাতে কীভাবে পৌঁছায় আপনার গোপন ফোন নম্বর?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৫, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

স্ক্যামারদের হাতে কীভাবে পৌঁছায় আপনার গোপন ফোন নম্বর?

অচেনা নম্বর থেকে স্প্যাম কলের যন্ত্রণা এখন দৈনন্দিন জীবনের এক বিরক্তিকর বাস্তবতা। লোন দেওয়া কিংবা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আসা এসব কল কেবল সময়ের অপচয় নয়, বরং আর্থিক জালিয়াতির বড় একটি ফাঁদ। অধিকাংশ ব্যবহারকারীই জানেন না যে তাদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর কীভাবে এই প্রতারকদের হাতে পৌঁছায়। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীর অসচেতনতা এবং অ্যাপগুলোর প্রযুক্তিগত ফাঁকফোকরই এর মূল কারণ।তথ্য চুরির পেছনে অনেক ক্ষেত্রেই শপিং মল বা অনলাইন কেনাকাটার সাইটগুলো দায়ী।

অফার বা লটারির কুপনের লোভে পড়ে অনেকেই নাম ও মোবাইল নম্বর প্রদান করেন। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার নিজেদের মুনাফার জন্য এই সংগৃহীত ডেটাবেস থার্ড পার্টি মার্কেটিং কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া অনিরাপদ ওয়েবসাইটে ক্লিক করা কিংবা সন্দেহজনক লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়াও নম্বর ফাঁসের বড় একটি উৎস।

স্মার্টফোনের অ্যাপগুলো থেকেও ব্যক্তিগত তথ্যের বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে কোনো অ্যাপ ইন্সটল করার সময় আমরা অনেক সময় নিয়মাবলি না পড়েই সব অনুমতি দিয়ে দিই। অনেক অ্যাপ অপ্রয়োজনে কন্টাক্ট লিস্ট বা ফোনবুকের অ্যাক্সেস চেয়ে বসে। এক পর্যায়ে অ্যাপটির সার্ভারে আপনার ফোনবুকের পরিচিত সব নম্বর জমা হয়, যা পরে স্ক্যামারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।সচেতনতা ও সঠিক সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

যেকোনো অচেনা অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিজের নম্বর শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। স্মার্টফোনের অ্যাপ সেটিংস থেকে অপ্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং নিয়মিত কল ফিল্টার ব্যবহার করা জরুরি। মোবাইলের ‘স্প্যাম অ্যান্ড কল আইডি’ ফিচারটি চালু রাখা বা নির্ভরযোগ্য কলার আইডি অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কলগুলো খুব সহজেই ব্লক করা যায়। মনে রাখবেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামান্য সচেতনতাই আপনাকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

banner
Link copied!