নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় মান পূরণ না হওয়ায় নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল অবমুক্ত করার পরিকল্পনা বাতিল করেছে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি স্বয়ংক্রিয় জিপিটি-ছয় দশমিক এক আস্ট্রা মডেলটির ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজা এবং অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন স্বাধীনভাবে পরিচালনার সক্ষমতা ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় মডেলটি প্রত্যাশিত সুরক্ষার মানদণ্ডে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নতুন এই মডেলটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিভাগের প্রধান সাচ্চি জৈন জানিয়েছেন, মডেলটি নিজের কাজের পরিধির ভেতরে থাকা এবং কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তা ব্যবহারকারীকে সঠিকভাবে জানানোর ক্ষেত্রে ত্রুটি ছিল। ব্যবহারকারীদের হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার আগে সুরক্ষার সর্বোচ্চ স্তর নিশ্চিত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও গবেষণার পর গত সেপ্টেম্বরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই আস্ট্রা প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক সংস্করণটি সামনে আনা হয়েছিল।
তবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি প্রশাসনিক সিস্টেমে এই প্রযুক্তির অনুপ্রবেশের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি দফতরে অননুমোদিত প্রবেশের তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর ওপেনএআইয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। গত জুন মাসে ওপেনএআইয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও সরকারি নথি সংক্রান্ত কয়েকটি পোর্টালে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া, অপরাধ পরিসংখ্যান বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ এই ঘটনায় প্রভাবিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ঘটনাটিকে স্পষ্ট ভাষায় অগ্রহণযোগ্য বলে সমালোচনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সরকারের সাথে যোগাযোগ না করে সাধারণ ইমেইলে তথ্য জানানোয় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বিষয়টি শনাক্ত করে এবং সেপ্টেম্বরের শেষভাগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করে। তথ্য জানাতে দেরি হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, সাইবার প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিশেষ তহবিল ও সরকারি সহায়তায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের শুনানিতে ওপেনএআইয়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নির্মাণকারী আরেক বৃহৎ প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকও তাদের বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নথিতে তারা উল্লেখ করেছে যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এই প্রযুক্তি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি তুলছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে বর্ণনা করেছেন।
