উইপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১১৭ মিলিয়ন বা ১১ কোটি ৭০ লাখের মতো ছোট-বড় হ্রদ বা লেক রয়েছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের ছোট জলাশয় থেকে শুরু করে বিশাল অভ্যন্তরীণ সমুদ্রের মতো বিস্তৃত হ্রদ—এই সুবিশাল তালিকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সত্যিই বিস্ময়কর। এর মধ্যে কিছু লেক শুধু দূর থেকে দেখার সৌন্দর্যে অনন্য, আবার কিছু লেকে সাঁতার কাটা, নৌকা চালানো, চারপাশে সাইকেল চালানো কিংবা ট্রেকিং করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিষয়ক সম্মানজনক পুরস্কার ‘ট্রাভমিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-এর সেরা ঘরোয়া ভ্রমণ লেখকের স্বীকৃতি পাওয়া প্রখ্যাত সারাহ ব্যাক্সটারের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জীবনের সেরা এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কয়েকটি বৈশ্বিক লেক ভ্রমণের বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
তালিকায় শুরুতেই রয়েছে ইতালি ও সুইজারল্যান্ডের সীমান্তে অবস্থিত বিখ্যাত ‘লেক মাগিওরে’ (Lake Maggiore)। ইতালির অন্যান্য নামী হ্রদ যেমন গার্দা বা কোমো-র চেয়ে এটি অনেক কম জনাকীর্ণ এবং এর মধ্যে একটি রাজকীয় আভিজাত্য রয়েছে। এই লেকটি একই সঙ্গে ইতালীয় ও সুইস সংস্কৃতির এক চমৎকার মিশ্রণ তৈরি করেছে। এর চারপাশের চোখ জুড়ানো পার্বত্য পটভূমি এবং অনন্য ভূমধ্যসাগরীয় অবহাওয়া পর্যটকদের হাইকিং, সাইক্লিং ও বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টসের সুবিধা দেয়। এছাড়াও এখানকার ঐতিহাসিক বোরোমিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দৃষ্টিনন্দন বাগান ও রাজপ্রাসাদগুলো দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের সীমানায় অবস্থিত ‘লেক কনস্ট্যান্স’ (Lake Constance)। রাইন নদীর ওপর অবস্থিত মধ্য ইউরোপের এই অন্যতম বৃহৎ হ্রদটি সাইকেল চালকদের জন্য এক পরম স্বর্গরাজ্য। এই হ্রদকে সম্পূর্ণ পরিভ্রমণ করার জন্য গড়ে উঠেছে ১৬৮ মাইলের একটি চমৎকার সমতল ও অফ-রোড সাইকেল ট্র্যাক। এই ট্র্যাকে সাইকেল চালিয়ে পর্যটকরা তিনটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে মধ্যযুগীয় রূপকথার শহর মীরসবার্গ, দেয়ালচিত্র খচিত স্টেইন আম রাইন এবং দ্বীপ-শহর লিন্ডাউয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।
ফিনল্যান্ডের বৃহত্তম হ্রদ ‘লেক সাইমা’ (Lake Saimaa) তালিকায় স্থান পেয়েছে এর চমৎকার স্থানীয় খাবারের সংস্কৃতির জন্য। ফিনল্যান্ডকে হ্রদের দেশ বলা হয় কারণ সেখানে আনুমানিক ১ লাখ ৮৮ হাজার লেক রয়েছে। এর মধ্যে সাইমা লেকটি এতই বিশাল যে এর ভেতরেই প্রায় ১৩ হাজার ছোট-বড় দ্বীপ রয়েছে। ইউরোপীয় গ্যাস্ট্রোনমি অঞ্চলের স্বীকৃতি পাওয়া এই হ্রদ এলাকায় পর্যটকেরা ফেরি বা কায়াকিংয়ের মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বুনো মাশরুম, তাজা বেরি এবং সুস্বাদু মিঠা পানির মাছের অনন্য স্বাদ নিতে পারেন।
আফ্রিকার মালাউই, তানজানিয়া ও মোজাম্বিক সীমান্তে অবস্থিত ‘লেক মালাউই’ (Lake Malawi) বিশ্বজুড়ে এর স্বচ্ছ পানি এবং অনন্য জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। বিশ্বের নবম বৃহত্তম এই হ্রদটিতে ১ হাজারের বেশি প্রজাতির রঙিন সিসলিড মাছ রয়েছে, যা একে স্নরকেলিং এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য একটি আদর্শ স্থানে পরিণত করেছে। এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত লেক মালাউই ন্যাশনাল পার্ক এই জলজ সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে। বালুকাময় সৈকত ও সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই হ্রদটিকে বিখ্যাত পরিব্রাজক ডেভিড লিভিংস্টোন ‘তারার হ্রদ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
