শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগ তুলে পুতিনের নতুন হুঁশিয়ারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৩, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগ তুলে পুতিনের নতুন হুঁশিয়ারি

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অধিকৃত লুহানস্কের একটি কলেজ ছাত্রাবাস বিধ্বস্ত ও ছয়জন নিহত হওয়ার পর কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার মস্কোয় ক্রেমলিনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং রুশ সামরিক বাহিনীকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেন। 

রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, স্টারোবিলস্ক শহরের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন দফায় মোট ১৬টি ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন, ওই এলাকায় কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা অবকাঠামো ছিল না, যার ফলে ইউক্রেনের এই হামলাকে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা বলা চলে না।এই হামলায় আরও ৩৯ জন আহত এবং ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুতিন নিশ্চিত করেছেন।

রাশিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা জানিয়েছেন, হামলার সময় লুহানস্ক স্টেট পেডাগজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্টারোবিলস্ক কলেজ হোস্টেলের ভেতরে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৮৬ জন শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে ছিল। দেশটির শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভা জানিয়েছেন, ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ১৮ জন শিশু আটকা পড়ে থাকতে পারে। 

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাঁচ তলাবিশিষ্ট হোস্টেল ভবনটির ওপরের তিনটি তলা এই হামলায় পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে। এই ঘটনাকে একটি নৃশংস অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে মস্কো জাতিসংঘের security council-এর একটি জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিক বা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। কিয়েভের জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নিখুঁত ড্রোন হামলাটি মূলত রাশিয়ার এলিট রুবিকন ড্রোন ইউনিটের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। এই বিশেষ ইউনিটটি ইউক্রেনের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর নিয়মিত ড্রোন হামলা পরিচালনার জন্য দায়ী ছিল বলে কিয়েভ দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে এই অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে বলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অবশ্য আহত এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, যাকে ১৯ বছর বয়সী ডায়ানা শোভকুন হিসেবে সনাক্ত করা হয়। সেখানে দেখানো হয় যে, ছাদের কংক্রিটের স্ল্যাব ভেঙে মাথায় আঘাত পেয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা লিউবভ ইয়াকোভলেভনা সংবাদমাধ্যমকে জানান, গভীর রাতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং তারা আতঙ্কে পাশের ভবনে আশ্রয় নেন।

এদিকে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী নভোরোসিস্ক বন্দরে ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ক্রাসনাদার অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে কয়েকটি প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে দুজন আহত হয়েছেন। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির সদর দপ্তরে সফল হামলার দাবি করেছিলেন, যেখানে প্রায় ১০০ রুশ সেনা হতাহত হয়েছেন।

banner
Link copied!