বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইউক্রেনে হামলার সময় পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

ইউক্রেনে হামলার সময় পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র

ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় একটি গ্রামে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার, বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্স জানিয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন যে প্রাথমিক প্রমাণ এবং উদ্ধার হওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ন্যাটো সদস্যভুক্ত একটি দেশের ভূখণ্ডে এমন হামলার ঘটনায় সমগ্র ইউরোপ জুড়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

অজ্ঞাত এই উড়ন্ত বস্তুটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার দূরে পোল্যান্ডের টারনাওয়া কোলোনিয়া নামক গ্রামের কাছাকাছি একটি খোলা মাঠে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ওই স্থানে প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট চওড়া একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। পোলিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় সময় রাত ৩:৪০ মিনিটে প্রথম বস্তুতটিকে শনাক্ত করে। এরপর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় দ্রুত একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বস্তুটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়। পরে ভোর ৪:০০ টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর লুবলিনে আয়োজিত এক বিশেষ জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী টাস্ক পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করেন। তিনি জানান যে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে যেসব টুকরো উদ্ধার করেছেন তার বেশিরভাগই রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত খ-১০১ মডেলের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের দিকেই নির্দেশ করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যদিও এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি তবে পোলিশ সরকার এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো জনবহুল এলাকার দিকে অগ্রসর হলে সামরিক বাহিনী তা আকাশেই ধ্বংস করে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল বলেও তিনি জানান।

পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কসিনিয়াক-কামিশ জানিয়েছেন যে বুধবার দিবাগত রাতে পোলিশ আকাশসীমার কাছাকাছি অন্তত ২০টি সন্দেহভাজন বস্তু ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে এবং এগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে। ন্যাটো সামরিক জোটও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ইউরোপে ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস জি গ্রিনকেভিচ একটি বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছেন যে ন্যাটো জোট তাদের মিত্র দেশগুলোর ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান আন্তোনিও কস্তাও এই ঘটনাকে সমগ্র ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অবশ্য আরও স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলার অংশ হিসেবেই একটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পোল্যান্ডে প্রবেশ করেছে। ওই দিন ভোরে রাশিয়া ইউক্রেনের লভিভ, কিয়েভ এবং ক্রিভি রিহ শহরের ওপর একযোগে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। বিবিসি জানিয়েছে যে এই প্রাণঘাতী হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৮ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন নিরীহ মানুষ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ক্রিভি রিহ শহরের কাছাকাছি একটি গ্রামে একই পরিবারের ৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে এমন অবাঞ্ছিত সামরিক বস্তুর পতন এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন পোল্যান্ডের একটি গ্রামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন সাধারণ কৃষক নিহত হয়েছিলেন যা পরে ইউক্রেনের দিক থেকে ছোড়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ বলে ধারণা করা হয়েছিল। এছাড়া গত দুই বছরে একাধিক ড্রোন পোলিশ ভূখণ্ডে এসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার ঠিক আগের দিনই পোলিশ প্রধানমন্ত্রী লুবলিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বৈঠক করেছিলেন যখন জেলেনস্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনা শেষ করে ফিরছিলেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় ন্যাটো জোট ভবিষ্যতে সরাসরি কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে কি না।

banner
Link copied!