বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

চীনা বংশোদ্ভূত এমপিকে কটাক্ষ করে তোপের মুখে পিটার্স

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

চীনা বংশোদ্ভূত এমপিকে কটাক্ষ করে তোপের মুখে পিটার্স

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পপুলিস্ট নেতা উইনস্টন পিটার্স দেশটির পার্লামেন্টে এক উত্তপ্ত বিতর্কের সময় চীনা বংশোদ্ভূত একজন সংসদ সদস্যকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলে রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে। পার্লামেন্টের নিয়মিত অধিবেশন চলাকালে অভিবাসন এবং বৈদেশিক নীতি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই ঘটনার পর দেশটির বিরোধী দল এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো পিটার্সকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিটার্সের এই মন্তব্যের পরপরই পার্লামেন্টের ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলীয় সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্পিকারের কাছে এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন আচরণকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণবাদী ও অসংসদীয় বলে আখ্যায়িত করেন। বিরোধী দল লেবার পার্টি এবং গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন যে, শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতার মুখ থেকে এ ধরনের কথা সংখ্যালঘু জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে।

উইনস্টন পিটার্স নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট নামক একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেন, যারা দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোট সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। রয়টার্সের তথ্যমতে, পিটার্সের এই মন্তব্য জোট সরকারের ভেতরেও গভীর অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিউজিল্যান্ডের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন প্রকাশ্য আচরণের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বৈচিত্র্যময় সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। বিবিসি নিউজ জানিয়েছে যে, মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য সমাজে এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দেশটিতে এশীয়দের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। চীনা বংশোদ্ভূত সম্প্রদায় নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে বিশাল অবদান রাখছে, তাই তাদের লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য নাগরিক সমাজকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই ধরনের উস্কানিমূলক কথা দেশটির বৈদেশিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চীনের সাথে নিউজিল্যান্ডের গভীর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির জাতিগত পরিচয় নিয়ে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেননি বা নিজের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যা কম স্পষ্ট তা হলো, জোট সরকারের প্রধান হিসেবে লাক্সন তার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মিত্রকে এই ধরনের মন্তব্যের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে প্রস্তুত কি না। আপাতত নিউজিল্যান্ডের রাজনীতিতে এই ঘটনা একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অভিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

banner
Link copied!