ইন্টারনেশনসের নতুন এক্সপ্যাট ইনসাইডার জরিপে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে পানামা, বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স জানিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার প্রবাসীর মতামত নিয়ে এই বার্ষিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে জীবনযাত্রার মান, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং স্থানীয় মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই বছরের জরিপে ৩১টি দেশের মধ্যে পানামা সামগ্রিক সূচকে সবার উপরে অবস্থান করছে এবং কর্মপরিবেশ ও ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সূচকেও প্রথম স্থান দখল করেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, পানামায় বসবাসকারী প্রায় সাতাশি শতাংশ প্রবাসী তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন, যা বিশ্ব গড়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এখানকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সহজে আবাসন পাওয়ার সুবিধা অভিবাসীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা থেকে এসে পানামার ক্যারিবীয় উপকূলে বসবাস করা এরিয়েল ব্যারিওনুয়েভো জানান যে এখানকার শান্ত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তাকে মানসিকভাবে অনেক স্বস্তি দিয়েছে। এছাড়া ক্যানাডা থেকে রাজধানী পানামা সিটিতে সম্প্রতি স্থানান্তরিত রোজা মেতালেবপোর উল্লেখ করেছেন যে এখানকার উন্নত ডিজিটাল সেবা ও সহজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা দূর থেকে কাজ করার পরিবেশকে অত্যন্ত সুগম করেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো, যা প্রবাসীদের সহজে স্থানীয় সংস্কৃতি ও সমাজে মিশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে তৃতীয় অবস্থানে থাকা থাইল্যান্ড জীবনযাত্রার সহজ খরচ এবং চমৎকার চিকিৎসাসেবার জন্য প্রবাসীদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সামগ্রিক শীর্ষ দশের তালিকায় আরও রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রাজিল, স্পেন, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, মালয়েশিয়া ও লুক্সেমবার্গ। এই দেশগুলোতে বসবাসকারী অভিবাসীরা মূলত নিরাপদ পরিবেশ ও অনুকূল আর্থিক ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘমেয়াদে সেখানে থাকার পরিকল্পনা করছেন।
অবশ্য পানামাসহ শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোতে কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সড়ক যোগাযোগ ও নির্দিষ্ট কিছু পরিবেশগত সুবিধার ক্ষেত্রে এখনও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে প্রবাসীরা মতামত দিয়েছেন। তবে জীবনযাপনের সামগ্রিক খরচ এবং সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থার কারণে এসব ছোটখাটো সীমাবদ্ধতা প্রবাসীদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বড় কোনো প্রভাব ফেলছে না। আন্তর্জাতিক এই জরিপটি বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের জন্য নতুন গন্তব্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।
