শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে বন্ধ থাকা কাদিম বসতি পুনর্স্থাপন করল ইসরায়েল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২১, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

পশ্চিম তীরে বন্ধ থাকা কাদিম বসতি পুনর্স্থাপন করল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের কাছে পরিত্যক্ত কাদিম বসতি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা, বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক আগে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বন্ধ করে দেওয়া এই বসতিতে তেল আবিব থেকে ত্রিশটি অগ্রগামী পরিবার এসে পৌঁছেছে। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই পদক্ষেপে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র প্রতিবাদ ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বসতি সম্প্রসারণের এই প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীরা সামরিক সুরক্ষায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ট্রেলার ভর্তি বিছানাপত্র, আসবাবপত্র এবং নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের যানবাহনে নীল ও সাদা রঙের ইসরায়েলি পতাকা উড়ছিল এবং তারা ফিলিস্তিনি গ্রাম ও কৃষিজমির পাশ দিয়ে অগ্রসর হয়। ইসরায়েলের চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একে ঐতিহাসিক সংশোধন বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তার সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী এবং আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

দুই হাজার পাঁচ সালে তৎকালীন সরকারের একতরফা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেনিনের উত্তর অংশে অবস্থিত কাদিম সহ মোট চারটি বসতি খালি করা হয়েছিল। সেই সময় এই বিচ্ছিন্ন বসতিগুলো রক্ষা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কৌশলগতভাবে অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেয় এবং একে একে গানিম, সানিউর ও হোমেশ বসতিগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়। কাদিম হলো সেই বন্ধ করে দেওয়া বসতিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ যা এবার পুনরায় চালু করা হলো।

স্থানীয় ফিলিস্তিনি কৃষকরা এই নতুন বসতি স্থাপন ও সামরিক উপস্থিতির কারণে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই অঞ্চলে বসবাসকারী এক ফিলিস্তিনি কৃষক বিবিসি নিউজকে জানান যে নতুন করে বসতি স্থাপনকারীরা ফিরে আসায় তাদের জীবন আবার ভীতিকর হয়ে উঠেছে। তাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষিজমি এবং যাতায়াতের পথগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে যে এই ধরনের পদক্ষেপে পুরো অঞ্চলটি আরও খণ্ডিত ও সংঘাতময় হয়ে উঠবে।

জেনিন রিফিউজি ক্যাম্পের পাশে নতুন সামরিক ঘাঁটি এবং চৌকি নির্মাণের কাজও খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংক্রিটের উঁচু প্রাচীর এবং ওয়াচটাওয়ারের মাধ্যমে অবরুদ্ধ এই সামরিক স্থাপনগুলো স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতাকে আরও সীমিত করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কড়া সমালোচনা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের এই নীতি অব্যাহত রেখেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা দিন দিন আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। ফিলিস্তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই বেআইনি বসতি স্থাপনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি মদদে এই বসতিগুলো পুনর্স্থাপিত হওয়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

banner
Link copied!