ইয়েমেনের কৌশলগত ময়ুন দ্বীপ হুথি যোদ্ধারা রবিবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিকটবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটিতে প্রবেশ করে হুথি যোদ্ধারা তাদের অবস্থান সুসংহত করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের অনুগত সেনাদের সাথে হুথিদের তীব্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর এই ভূখণ্ডগত পরিবর্তন ঘটে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য পথের ওপর নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
ময়ুন দ্বীপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হুথি যোদ্ধারা দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কৌশলগত মারিব শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের এই অগ্রযাত্রার মুখে সৌদি আরব সম্প্রতি হুথিদের দখলে যাওয়া বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতের কারণে হাজার হাজার সাধারণ ইয়েমেনি নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে দেশটির চরম মানবিক সংকট আরও গভীর রূপ ধারণ করেছে।
সংঘাত আঞ্চলিক পরিমণ্ডলেও প্রভাব ফেলছে।
এদিকে ইয়েমেনে লড়াই তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান যেকোনো নতুন হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবনে আল-রেজা। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন যে হুমকির মাধ্যমে ইরানকে দমানো যাবে বলে মনে করলে ওয়াশিংটন বড় ভুল করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইরান এখন পর্যন্ত তাদের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রদর্শন করেছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন নজরদারি সামরিক ড্রোন আটক করার দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
উম্মাহকণ্ঠ ডট কম অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে লোহিত সাগর তীরবর্তী অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলীয় ফ্রন্টে এখনো সামরিক সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক হতাহতের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
