বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যৌন নিপীড়নের বিচার

ইন্দোনেশিয়ায় গোপন প্যারোল বাতিল: যৌন নিপীড়ক শিক্ষক কারাগারে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় গোপন প্যারোল বাতিল: যৌন নিপীড়ক শিক্ষক কারাগারে

আবাসিক মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এক শিক্ষককে গোপন প্যারোল বাতিলের পর পুনরায় কারাগারে পাঠিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। মোচামাদ সুবচি আজাল সানি নামের ওই ব্যক্তি দেশটির পূর্ব জাভায় অবস্থিত একটি প্রভাবশালী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মুখতার মুথির ছেলে। ২০২২ সালে এক নারী শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিল।

অনিয়মের অভিযোগে তার মুক্তি বাতিল করে সাজা কার্যকর করা হয়েছে।

আইনি মেয়াদের অর্ধেকেরও কম সময় কারাভোগের পর ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে গোপনে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। আইনগতভাবে তথ্য পাওয়ার অধিকার থাকলেও নির্যাতিত ওই সাবেক শিক্ষার্থীকে বিষয়টি জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অনিয়মের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর দেশটির পার্লামেন্টে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং আইনপ্রণেতাদের দাবির মুখে সরকার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শুরু করে। সেই তদন্তে প্রক্রিয়াগত মারাত্মক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তার প্যারোল আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন ও সংশোধন বিষয়ক মন্ত্রী অগাস আন্দ্রিয়ান্তো নিশ্চিত করেছেন, যারা এই নিয়মবহির্ভূত মুক্তির অনুমোদন দিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী সাবেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর খবরে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আইনের সঠিক প্রয়োগ প্রত্যাশা করেন। মামলার অন্যতম সাক্ষী ইরা পুস্পিতাসারিও এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিপীড়ন বন্ধে দেশটির সংসদে বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে অংশ নিয়ে মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী জোকো জুমাদি উল্লেখ করেন, প্রভাব ও অনুসারী থাকার কারণে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনায় প্রায়ই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা হুমকির মুখে পড়েন।

এর আগে ২০২২ সালে জমবাংয়ের মাদ্রাসায় সমর্থকদের বাধার মুখে টানা ১৫ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর ওই শিক্ষককে আটক করেছিল পুলিশ। যদিও প্রসিকিউশন ধর্ষণের অভিযোগে কঠোর সাজার আবেদন করেছিল, আদালত তাকে একটি নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

banner
Link copied!