কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলে একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় আরও ৬ জন শ্রমিক গুরুত্বর আহত হয়েছেন বলে দেশটির ন্যাশনাল মাইনিং এজেন্সি (এএনএম) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৭২ কিলোমিটার উত্তরে কুন্দিনামার্কা বিভাগের সুতাতাউসা পৌর এলাকায় এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের পর খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খনির ভেতরে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস জমে যাওয়ার কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
কুন্দিনামার্কার গভর্নর জর্জ এমিলিও রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। গভর্নর জানান, খনির গভীর থেকে ৬ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বাকি ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর বর্তমানে ওই খনিটির সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খনিটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং সরকারি নিবন্ধিত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে গ্যাসের মাত্রা কেন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই খনির ভেতরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং মিথেনের বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ শুরুর আগে খনির ভেতরের বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। এই সতর্কতার কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা সময় বেশি লেগেছে বলে জানা গেছে।
কলম্বিয়ায় খনি দুর্ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম এই কয়লা উৎপাদনকারী দেশটিতে প্রায়ই খনির ভেতরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের খনিগুলোতে নিরাপত্তা নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হয় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালেও কলম্বিয়ার এই একই অঞ্চলে একটি খনি দুর্ঘটনায় ২১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় প্রশাসন ও খনি মন্ত্রণালয় এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। নিহত শ্রমিকদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। খনি শ্রমিকদের সংগঠনগুলো এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে খনি পরিচালনা করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্য খনিগুলোকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
