বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

ইউক্রেনে রাশিয়ার ১৫৬০টি ড্রোন হামলা: কিয়েভে ৩ জন নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৪, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

ইউক্রেনে রাশিয়ার ১৫৬০টি ড্রোন হামলা: কিয়েভে ৩ জন নিহত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার চালানো নজিরবিহীন ড্রোন ও মিসাইল হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত রাশিয়া মোট ১,৫৬০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। কেবল কিয়েভেই একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনের ওপর শক্তিশালী ড্রোন আছড়ে পড়ায় ভবনটি আংশিক ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, গত রাতের হামলায় রাশিয়া ৬৭০টি অ্যাটাক ড্রোন এবং ৫৬টি মিসাইল ছুড়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যারা মনে করে যুদ্ধ শেষের দিকে, তাদের কাজ অন্তত এমন হতে পারে না।" জেলেনস্কি আরও জানান, কিয়েভের ছয়টি জেলা এবং পার্শ্ববর্তী আরও ছয়টি অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভ ছাড়াও ওডেসা অঞ্চলের বন্দর এবং বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

এই ভয়াবহ হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি তিন দিনের যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুদ্ধ হয়তো স্তিমিত হয়ে আসছে। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই রাশিয়ার এই বিশাল আক্রমণ শান্তি প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। আল জাজিরার কিয়েভ প্রতিনিধি অড্রে ম্যাকআলপাইন জানিয়েছেন, যুদ্ধের ইতিহাসে এটি ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ড্রোন হামলা।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধের অবসানের বিষয়ে পুতিনের দেওয়া গত শনিবারে মন্তব্যটি কোনোভাবেই রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। বুধবার মস্কো পুনরায় তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে যে, কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেনকে ডনবাস অঞ্চলের দখল ছাড়তে হবে। তবে কিয়েভ এই শর্তকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই জন শিশুও রয়েছে। জেলেনস্কি বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যেন তারা এই ভয়াবহ হামলার বিরুদ্ধে চুপ না থাকেন এবং ইউক্রেনের আকাশ রক্ষায় আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেন। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যে ক্ষীণ আশার আলো দেখা গিয়েছিল, ১৫৬০টি ড্রোনের গর্জনে তা এখন সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে পড়েছে।

banner
Link copied!