প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এবারের বেইজিং সফর কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের মিলনমেলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার বেইজিংয়ে অবতরণের পর ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে করমর্দন করছিলেন, তখন তাঁর ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ডজনখানেক মার্কিন ধনকুবের ও টেক জায়ান্ট। এলন মাস্ক থেকে শুরু করে টিম কুক—আমেরিকার করপোরেট জগতের শীর্ষ কর্তারা এখন বেইজিংয়ে, আর তাঁদের প্রত্যেকেরই পকেটে রয়েছে বড় বড় ব্যবসায়িক এজেন্ডা।
প্রতিনিধি দলে কারা আছেন?
ট্রাম্পের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি বড় কোম্পানির প্রধানরা যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলো হলো:
| নাম | প্রতিষ্ঠান | প্রধান লক্ষ্য |
|---|---|---|
| এলন মাস্ক | টেসলা, স্পেসএক্স, এক্স (টুইটার) | টেসলার এফএসডি প্রযুক্তির অনুমোদন ও স্পেসএক্সের বাজার। |
| টিম কুক | অ্যাপল (Apple) | সরবরাহ চেইন রক্ষা ও ১০০% শুল্ক থেকে রেহাই। |
| জেনসেন হুয়াং | এনভিডিয়া (Nvidia) | চিপ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। |
| ডেভিড সলোমন | গোল্ডম্যান স্যাকস | আর্থিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো। |
তাদের স্বার্থ কী?
১. শুল্ক যুদ্ধের অবসান: গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক মার্কিন কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশে বড় আঘাত হেনেছে। টিম কুকের মতো নির্বাহীরা চাইছেন চীনের ওপর এই বিশাল শুল্কের বোঝা কমিয়ে একটি স্থায়ী বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে, যাতে আইফোন বা অন্যান্য হার্ডওয়্যার তৈরির খরচ না বাড়ে।
২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চিপ বাজার: এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের জন্য এটি অস্তিত্বের লড়াই। মার্কিন সরকার চীনে উন্নত চিপ রপ্তানিতে যে কড়াকড়ি আরোপ করেছে, তার ফলে এনভিডিয়া বড় বাজার হারাচ্ছে। তিনি চাইছেন ট্রাম্পের মাধ্যমে বেইজিংকে বোঝাতে যেন মার্কিন চিপের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় থাকে।
৩. কাঁচামাল ও বিরল ধাতু: ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে বিশ্বে জ্বালানি ও কাঁচামালের তীব্র সংকট চলছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় `রেয়ার আর্থ মেটাল` বা বিরল ধাতুর প্রধান উৎস হলো চীন। এলন মাস্কের টেসলার জন্য এই ধাতুর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
৪. ট্রাম্পের `রাজনৈতিক জয়`: সামনেই যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ট্রাম্প চাইছেন চীনের কাছ থেকে বড় কোনো বিনিয়োগ বা বাণিজ্যিক ছাড় আদায় করে ভোটারদের বোঝাতে যে তিনি আমেরিকার অর্থনীতির জন্য কাজ করছেন। আর সিইওরা সেই `উইন` বা জয় ছিনিয়ে আনতে ট্রাম্পের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইতিমধ্যে এই সিইওদের স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের দরজা আরও চওড়া হবে। তবে এর বিনিময়ে চীনও হয়তো তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয়তা বা প্রযুক্তিগত কিছু সুবিধা দাবি করবে। এই `গিভ অ্যান্ড টেক` বা দেওয়া-নেওয়ার খেলায় শেষ পর্যন্ত বিজয় কার হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
