প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার নয়াদিল্লিতে সমবেত হন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের নেতা রাহুল গান্ধী এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিভিন্ন কর্মসূচির সর্বশেষ ধাপ ছিল এই বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তারা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থক নন বলে মনে করা হয়, এমন মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরাই এই ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন সবচেয়ে বেশি।
তবে নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের নাম ভুলবশত তালিকা বাদ পড়েছে, তারা চাইলে পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।
মিছিলটিকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং যান চলাচলে পরিবর্তন আনা হয়। বিক্ষোভকারীরা মধ্য নয়াদিল্লি থেকে ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানের দিকে এগিয়ে যান।
সমাবেশস্থলের চারপাশে লাঠি ও ঢালধারী পুলিশ সদস্যসহ শত শত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশেই প্রস্তুত রাখা হয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ যান।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ভারতের জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা নাড়তে থাকেন। বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা একটি ছাদখোলা জিপে চড়ে পুরো রুটটি অতিক্রম করেন।
শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এএনআই বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিক্ষোভকে খারিজ করে দেন।
তিনি বলেন, রামলীলা ময়দানে যা ঘটছে তা গণতন্ত্রের প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শনের অংশ নয়। গণতন্ত্রের নাম ভাঙিয়ে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র মাত্র।
গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকেই বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের গড়া ককরোজ জনতা পার্টি প্রায় প্রতিদিনের মতো বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। কমিশনারের দুই উপপ্রধান ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি তোলার পর থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর এই বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধিষ্ণু বিরোধী আন্দোলন তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুতর সংকট তৈরি করেছে। ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৯ সালে।
