যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রবিবারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে পায়ের চোটের কারণে মাঠে নামতে পারছেন না ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র বলে রয়টার্স এবং বিবিসি স্পোর্ট নিশ্চিত করেছে। মরক্কোর বিরুদ্ধে এই হাইভোল্টেজ উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তিনি এখনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার জন্য শতভাগ ফিট হয়ে উঠতে পারেননি। সেলেসাওরা তাদের নতুন হাই-প্রোফাইল প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে তাদের মূল ফুটবল অভিযান শুরু করছে।
পায়ের পেশির গুরুতর চোটের কারণে নেইমার বর্তমানে একটি নিবিড় এবং বিশেষায়িত পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে সময় পার করছেন। এই শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় অনুশীলন সেশনেও অংশ নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে উদ্বোধনী ম্যাচে আফ্রিকার অন্যতম লড়াকু দল মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের চেনা আক্রমণভাগে নেইমারের অনুপস্থিতি তীব্রভাবে অনুভূত হবে এবং দলটি তাঁর দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ফুটবলীয় সৃজনশীলতা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে। ব্রাজিল দলের নতুন ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে এই তারকা ফুটবলার দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর বর্তমান পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে সামনের দিকে এগোচ্ছে।
কোচ আনচেলত্তি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরও বলেন যে নেইমার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং তারা অত্যন্ত আশাবাদী যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে মূল দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন। ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবর মাসে এবং এরপর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। গুরুতর ইনজুরি নিয়ে নানা রকমের দীর্ঘস্থায়ী শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলারকে বিশ্বকাপের চব্বিশ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। এই পরিবর্ধিত বিশ্বকাপে গ্রুপ ডি-তে মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার পর আগামী ম্যাচগুলোতে ব্রাজিলের পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ দল হলো হাইতি এবং স্কটল্যান্ড।
ব্রাজিল ফুটবল ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসকরা আশা করছেন যে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে নেইমার অবশ্যই মাঠে ফিরতে সম্পূর্ণ সক্ষম হবেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো, প্রথম ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রদ্রিগোর মতো তরুণ উইঙ্গারদের ওপর অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক গোল করার মানসিক চাপ তৈরি করবে কি না। বিশ্বকাপের এই বিশাল মহোৎসবে তাঁর কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন। সাম্বার দেশের এই ঐতিহ্যবাহী ফুটবলীয় মিশনকে সফল করতে হলে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর শক্তিশালী রক্ষণব্যূহ ভাঙা আনচেলত্তির দলের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
