শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আসামে বিমান দুর্ঘটনা: ভারতীয় বিমান বাহিনীর ৫ ক্রু নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৩, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

আসামে বিমান দুর্ঘটনা: ভারতীয় বিমান বাহিনীর ৫ ক্রু নিহত

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের জোরহাট এলাকায় শনিবার ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন সামরিক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, আল জাজিরা এবং এএফপি জানিয়েছে। বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে আন্তোনভ আন-৩২ মডেলের ওই মালবাহী বিমানটি আসামের জোরহাট অঞ্চলে একটি নিয়মিত উড্ডয়ন বা রুটিন সর্টি চলাকালীন এই মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়। উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধার কাজ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিখুঁতভাবে উদঘাটন করার জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা হবে। আসামে বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সামরিক বিমানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই তদন্তের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পরপরই ভারতের জনপ্রিয় সংবাদ চ্যানেল এনডিটিভি দুর্ঘটনাস্থলের কিছু বিশেষ ভিডিও চিত্র সরাসরি সম্প্রচার করেছে যেখানে বিমানটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ওই সম্প্রচারিত চিত্রে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আকাশে একটি ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায় যা এই দুর্ঘটনার তীব্রতার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। আসামের জোরহাট অঞ্চলের পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিমানটি আছড়ে পড়ার সাথে সাথেই এটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশের মধ্যে বিমানটির প্রধান ধ্বংসাবশেষ থেকে নিহত পাঁচজন সেনা কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এই আকস্মিক আসামে বিমান দুর্ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে কারণ বিমানটি লোকালয়ের কাছাকাছি একটি ফাঁকা জায়গায় আছড়ে পড়েছিল।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, উড্ডয়নের ঠিক কোন মুহূর্তে বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিল এবং এর পেছনে কোনো হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া যান্ত্রিক গোলযোগ ছিল কি না। ভারতীয় বিমান বাহিনী বর্তমানে তাদের সামরিক ও বেসামরিক মালামাল পরিবহনের কাজে প্রায় ১০৫টি আন্তোনভ আন-৩২ মডেলের বিমান সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে থাকে। ইউক্রেনের তৈরি এই দ্বৈত ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমানগুলো মূলত দুর্গম পাহাড়ি ও সীমান্ত অঞ্চলে রসদ এবং সৈন্য স্থানান্তরের কাজে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দিয়ে আসা এই পুরনো বিমানগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা, fitness এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে এখন দেশটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে নানা তাত্ত্বিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আসামে বিমান দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে এই বিমানগুলোর দীর্ঘদিনের পুরনো প্রযুক্তি দায়ী কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মডেলের বিমান নিয়ে এর আগেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে যা দেশটির সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এর আগে ২০১৯ সালে চীনের সীমান্ত সংলগ্ন অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে এই একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা পড়েছিল। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা মোট ১৩ জন আরোহীর সবাই অত্যন্ত নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন যা দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। শনিবারের এই নতুন আসামে বিমান দুর্ঘটনা ভারতীয় বিমান বাহিনীর সক্ষমতা এবং তাদের পুরনো বিমান বহরের দ্রুত আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। নিহত পাঁচজন সামরিক কর্মীর পরিবারের প্রতি বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

banner
Link copied!